কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলায় রাজনৈতিক তাপমাত্রার পারদ চড়ল তুঙ্গে। বকেয়া পাওনা এবং স্থায়ী বেতনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনরত পার্শ্ব শিক্ষকরা আচমকাই হাজির হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা মঞ্চের ঠিক বিপরীতে। এই অতর্কিত বিক্ষোভের জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। এই ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপিকে দায়ী করে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন।
বিক্ষোভের প্রেক্ষাপট: শুক্রবার দুপুরে শয়ে শয়ে পার্শ্ব শিক্ষক ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে ধর্মতলার দিকে এগোতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তাঁরা অবহেলিত, তাঁদের নূন্যতম সাম্মানিক বাড়ানো হচ্ছে না এবং স্থায়ী করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। মিছিলটি যখন মমতার ধরনা মঞ্চের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এই সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। বেশ কয়েকজন শিক্ষককে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়।
মমতার পাল্টা তোপ: ধরনা মঞ্চ থেকে মাইক হাতে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত কড়া ভাষায় ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “কিছু লোক আছেন যারা সব সময় অশান্তি করতে চান। আমি তো অনেক করেছি, আগে কত পেতেন আর এখন কত পান সেটা কি মনে আছে?” তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, এই আন্দোলনের পিছনে দিল্লি তথা মোদি-শাহের মদত রয়েছে। মমতার কথায়, “যাঁরা আজ এখানে স্লোগান দিচ্ছেন, তাঁরা আসলে বিজেপির ক্যাডার হয়ে কাজ করছেন। এখানে কেন? হিম্মত থাকলে দিল্লি গিয়ে মোদি-শাহকে বিক্ষোভ দেখান। শিক্ষা খাতে টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র, আর আপনারা এখানে এসে নাটক করছেন?”
কেন্দ্র-রাজ্য দড়ি টানাটানি: মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সর্বশিক্ষা অভিযানের (SSA) টাকা কেন্দ্র দিচ্ছে না বলেই রাজ্যের পক্ষে অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি পার্শ্ব শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনাদের টাকা তো দিল্লি দেয়। সেখানে গিয়ে কেন ধরনা দেন না? আপনারা কি চান আমি সব বন্ধ করে দিই?” পাল্টা আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে আসেননি, পেটের টানে রাস্তায় নেমেছেন। সব মিলিয়ে পার্শ্ব শিক্ষকদের এই বিক্ষোভ এখন তৃণমূল বনাম বিজেপি সংঘাতের নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।