ভারতীয় কর্পোরেট জগতের অন্যতম প্রভাবশালী ‘সোনা গ্রুপ’-এর পারিবারিক বিবাদ এবার এক নজিরবিহীন মোড় নিল। প্রয়াত শিল্পপতি সঞ্জয় কাপুরের মা রানী কাপুর এবং স্ত্রী প্রিয়া কাপুরের মধ্যেকার দীর্ঘদিনের সম্পত্তি ও ট্রাস্ট সংক্রান্ত বিবাদ মেটাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়কে নিযুক্ত করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি জে বি পরদিওয়ালা এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়ার ডিভিশন বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছে।
পারিবারিক মর্যাদা রক্ষার আর্জি:
আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, এটি একটি একান্তই পারিবারিক বিষয় এবং একে কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের ‘বিনোদনের মাধ্যম’ হতে দেওয়া যাবে না। বিচারপতিরা নির্দেশ দিয়েছেন, দুই পক্ষের কেউই এই বিবাদ নিয়ে জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো পোস্ট করাও নিষিদ্ধ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “খোলা মন এবং ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এই মধ্যস্থতায় অংশ নিন, যাতে বছরের পর বছর মামলা টেনে নিয়ে যেতে না হয়।”
৮০ বছরের বৃদ্ধার লড়াই বনাম ট্রাস্ট বিতর্ক:
বিবাদের মূলে রয়েছে ‘রানী কাপুর ফ্যামিলি ট্রাস্ট’। শিল্পপতি সঞ্জয় কাপুরের মা রানী কাপুরের অভিযোগ, এই ট্রাস্টটি জালিয়াতির মাধ্যমে গঠন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই ট্রাস্টের আড়ালে তাঁকে সোনা গ্রুপের সমস্ত কোম্পানি এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে। গত বছর জুন মাসে সঞ্জয় কাপুরের মৃত্যুর পর এই উত্তরাধিকার যুদ্ধ আরও তীব্র হয়।
সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ:
গত ২৭ এপ্রিলের শুনানিতেও আদালত জানিয়েছিল যে, ৮০ বছর বয়সে এই দীর্ঘ আইনি লড়াই কোনো গঠনমূলক ফল দেবে না। বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই শ্রেয়। বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষ মধ্যস্থতায় রাজি হওয়ায় প্রাক্তন সিজেআই ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়কে এই গুরুভার দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে আগামী অগস্টের শুরুতে মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। বর্তমানে পুরো কর্পোরেট মহল তাকিয়ে আছে এই হাই-প্রোফাইল ফ্যামিলি ড্রামার ভবিষ্যতের দিকে।





