ধনতেরাসে ৫০,০০০ কোটি টাকার রেকর্ড ব্যবসা, দাম আকাশছোঁয়া হলেও সোনা-রূপা কিনতে ছুটছে মধ্যবিত্ত!

আলোর উৎসব দীপাবলি এগিয়ে আসতেই দেশের বাজারে বইছে আনন্দের ঢেউ। উৎসবের উন্মাদনায় মুখর ক্রেতা এবং বিক্রেতারা। বিশেষত, সোনা, রূপা ও বাসন কেনার সবচেয়ে শুভ দিন ধনতেরাসের প্রাক্কালে বুলিয়ন (Bullion) বাজারে রেকর্ড পরিমাণ বাণিজ্য হয়েছে।

কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (CAIT) এবং তাদের জুয়েলারি শাখা অল ইন্ডিয়া জুয়েলার্স অ্যান্ড গোল্ডস্মিথ ফেডারেশন (AIJGF)-এর অনুমান, শুধুমাত্র ধনতেরাসের দিনেই সোনা ও রূপার সম্মিলিত বিক্রি ৫০,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। যদিও ঐতিহ্যবাহী গয়নার বিক্রি কিছুটা কমেছে, কিন্তু এই দুই সংস্থার দেশব্যাপী সমীক্ষায় দেখা গেছে, এবার সোনা ও রূপার কয়েনের (Coin) চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

দাম বাড়তেই বদলে গেল কেনার ধরণ! কেন গয়নার চেয়ে কয়েনে আস্থা?
CAIT-এর জাতীয় মহাসচিব প্রবীণ খান্ডেলওয়াল এবং AIJGF-এর জাতীয় সভাপতি পঙ্কজ অরোরা এই ক্রয়-পদ্ধতির পরিবর্তনের জন্য বুলিয়নের রেকর্ড-উচ্চ দামকে দায়ী করেছেন। তাঁরা লক্ষ্য করেছেন, উচ্চ-আয় এবং মধ্যবিত্ত— উভয় শ্রেণির গ্রাহকরাই এখন প্রথাগত অলঙ্কার কেনার পরিবর্তে কয়েন বা বাট (Bar)-কে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

খান্ডেলওয়াল বলেন, “সোনা ও রূপার দাম যখন ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে, তখন মানুষ বুলিয়ন কয়েনকে মূল্যস্ফীতির (Inflation) বিরুদ্ধে একটি ভালো রক্ষাকবচ হিসেবে দেখছেন।”

গত বছর দীপাবলির সময় যে সোনার দাম ছিল ১০ গ্রাম প্রতি প্রায় ৮০,০০০ টাকা, তা বর্তমানে প্রায় ৬০% বেড়ে ১.৩০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। একইভাবে, রূপার দামও কেজি প্রতি ৯৮,০০০ টাকা থেকে প্রায় ৭০% বেড়ে ১.৮ লাখ টাকা হয়েছে। এই ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি দেশের বুলিয়ন বাজারে বিনিয়োগকারীদের একটি শক্তিশালী প্রবাহ ঘটিয়েছে।

কতটা সোনা-রূপা বিক্রি হবে?
CAIT এবং AIJGF-এর অনুমান অনুসারে, ধনতেরাস থেকে দীপাবলির এই উৎসবের সময়ে ভারতের ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ জুয়েলার্স সম্মিলিতভাবে প্রায় ২৫ টন সোনা (যার মূল্য প্রায় ৩২,৫০০ কোটি টাকা) এবং ১,০০০ টন রূপা (যার মূল্য প্রায় ১৮,০০০ কোটি টাকা) বিক্রি করতে পারে। এই বিপুল লেনদেন মোট বুলিয়ন বাণিজ্যকে ৫০,০০০ কোটি টাকারও বেশি করে তুলবে।

শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রেতাদের এই পছন্দের পরিবর্তন গয়নার বাজারকে নতুন করে সাজিয়ে তুলছে। অরোরা ব্যাখ্যা করেন, “বিয়ের মরসুমের ক্রেতাদের মধ্যেও এখন ভারী গয়নার চাহিদা কমেছে, তাঁরা হালকা নকশার গয়না পছন্দ করছেন।” এই প্রবণতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে জুয়েলার্সরা নতুন ডিজাইনের ‘ফ্যান্সি জুয়েলারি’ এবং রৌপ্য কয়েনের নতুন সংগ্রহ নিয়ে আসছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy