পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর শহরের জনপ্রিয় কালীপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম হলো ‘মানিকপুর ভ্রাতৃসঙ্ঘ’ পরিচালিত মোটাকালীর পুজো। এই বছর ৫৮তম বর্ষে পদার্পণ করল এই পুজো। প্রতিমার সুবিশাল আকার ও আয়তনের কারণেই শহরবাসীর কাছে এই পুজো মোটাকালীর পুজো বা বড়কালীর পুজো হিসেবেই পরিচিত।
কুস্তিগীরদের উদ্যোগে সূচনা:
এই পুজোর সূচনা হয়েছিল এলাকার কুস্তিগীর ও ব্যায়ামবীরদের হাতে। ক্লাবের বর্তমান সদস্য চন্দন চৌধুরী জানান, ক্লাবের প্রবীণ সদস্য—যেমন কাবুল দে বক্সী, তপন চৌধুরী, অসিত দাস, সন্দীপ মিত্র-সহ অনেকেই নিয়মিত শরীরচর্চা ও কুস্তি করতেন। দেহসৌষ্ঠব প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিতেন তাঁরা।
পুজো উদ্যোক্তারা জানান, “পুজো শুরুর সময়ে তাঁরাই মৃৎশিল্পীকে বলেছিলেন, আমাদের দেবীর আকারও হবে আমাদের সুঠাম দেহের মতোই সুবিশাল।” সেই ঐতিহ্য মেনেই প্রথম প্রথম ২৫-২৬ ফুট উচ্চতার কালীঠাকুর তৈরি করা হলেও, বর্তমানে জায়গার অভাবে উচ্চতা কমিয়ে ২০ ফুট করা হয়েছে।
গরুর গাড়িতেই হয় পুজো:
এই পুজোর একটি অন্যতম প্রাচীন রীতি ও ঐতিহ্য হলো দেবীর প্রতিমা বা ঠাকুর গরুর গাড়ির উপর স্থাপন করা হয় এবং সেইভাবেই দেবীর পুজো হয়।
বিসর্জন প্রথা: পুজো শেষে ক্লাবের সদস্য ও এলাকার বাসিন্দারা বিশাল শোভাযাত্রা সহকারে, গরুর গাড়ি টেনে নিয়ে যান। তারপর কাঁসাই নদীতে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। তবে মজার বিষয় হলো, বিসর্জনের পর গরুর গাড়িটি তাঁরা ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।
৫৭ বছর আগে মেদিনীপুর শহরের মানিকপুর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় এই ‘ভ্রাতৃ সঙ্ঘ’ ক্লাব। স্থানীয় ক্লাবের উদ্যোগে শুরু হলেও, বর্তমানে এই পুজোয় শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সকল বাসিন্দারাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।