দেশজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে জনগণনা! সংসদে দাঁড়িয়ে খোদ অমিত শাহর মেগা ঘোষণা, সঙ্গে থাকবে ‘জাতিগত গণনা’ও

প্রতীক্ষার অবসান! ২০২৬-এর ডিলিমিটেশন বিল (Constitutional 131st Amendment Bill) নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বিতর্কের মাঝেই বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ভারতের বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৭-এর জনগণনার (Census 2027) কাজ ইতিমধ্যেই গত ১ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে। এই প্রথমবার ভারত ‘ডিজিটাল জনগণনা’ এবং ‘সেলফ-এনুমারেশন’ বা স্ব-গণনার পথে হাঁটছে।

অমিত শাহের বক্তব্যের প্রধান ৩টি পয়েন্ট:

  • শুরু হয়েছে হাউস-লিস্টিং: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দেশজুড়ে প্রথম পর্যায়ের ‘হাউস-লিস্টিং’ বা বাড়ি তালিকাভুক্তির কাজ শেষ করা হবে। এরপর ২০২৭-এর ফেব্রুয়ারিতে হবে মূল জনসংখ্যা গণনা।

  • জাতিগত জনগণনা (Caste Census): বিরোধীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এদিন শাহ বড় ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এবারের জনগণনায় জনসংখ্যার পাশাপাশি ‘জাতিগত গণনা’র (Caste Enumeration) সংস্থানও রাখা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

  • ডিলিমিটেশনের রক্ষাকবচ: দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে শাহ বলেন, “জনগণনার পর যখন ডিলিমিটেশন হবে, তখন দক্ষিণের একটি আসনও কমবে না। বরং তামিলনাড়ুর আসন ৩৯ থেকে বেড়ে ৫৯ হতে পারে।” তিনি আশ্বস্ত করেন যে, প্রতিটি রাজ্যের লোকসভা আসন বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

কেন এই ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ? ২০২১ সালে হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে এই জনগণনা পিছিয়ে গিয়েছিল। ২০২৬-এর ১ এপ্রিল থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার অর্থ হলো— ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগেই নতুন সীমানা পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল (Nari Shakti Vandan Adhiniyam) কার্যকর করার পথ পরিষ্কার হয়ে গেল।

ডিজিটাল ও স্মার্ট সেন্সাস: এবারের জনগণনা হবে সম্পূর্ণ পেপারলেস বা কাগজবিহীন। একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ১৬টি ভাষায় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সাধারণ মানুষ চাইলে নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে নিজেরাই নিজেদের তথ্য আপলোড করতে পারবেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy