একদিকে অর্থনৈতিক দেউলিয়াপনা, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ—পাকিস্তান এখন আক্ষরিক অর্থেই খাদের কিনারায়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা উত্তেজনার পর পরিস্থিতি এখন ‘ওপেন ওয়ার’ বা খোলা যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। একদিকে সাধারণ মানুষের ঘরে খাবার নেই, অন্যদিকে সীমান্তে উড়ছে যুদ্ধবিমান।
বারুদের গন্ধে ভারী আকাশ: গত ১৬ ও ১৭ মার্চ পাকিস্তানের বিমানবাহিনী আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ নানগারহার ও খোস্ত প্রদেশে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়। কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে হামলার ফলে কয়েকশ মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে, যদিও পাকিস্তানের দাবি তারা কেবল জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে। পাল্টায় আফগান তালিবান বাহিনীও পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি ও বন্নু এলাকায় ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
আটা নেই, তেল নেই, আছে শুধু হাহাকার: যুদ্ধের ডামাডোলের মাঝেই পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকট চরমে। মুদ্রাস্ফীতি আকাশছোঁয়া।
-
গম সংকট: খরা এবং অব্যবস্থাপনার জেরে দেশে গমের উৎপাদন প্রায় ২.২ মিলিয়ন টন কমেছে। বাজারে আটা ও রুটির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
-
জ্বালানি সংকট: হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে পাকিস্তানে তেলের মজুত ফুরিয়ে আসছে। দেশে মাত্র ২৬ দিনের জ্বালানি অবশিষ্ট আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকার ইতিমধ্যেই ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর কথা ভাবছে।
কেন এই যুদ্ধ? ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তান ভিত্তিক টিটিপি (TTP) জঙ্গিরা পাকিস্তানে একের পর এক আত্মঘাতী হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত বলে বর্ণনা করেছে।
বিশ্লেষকদের মত: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের দেশের চরম ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরাতেই পাকিস্তান সরকার যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু এই যুদ্ধ দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে।