দেশের রাজধানীতে কি মহিলারা কোনোদিনই নিরাপদ হবেন না? নির্ভয়া কাণ্ডের ১৪ বছর পর ফের এক হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকল দিল্লি। সোমবার রাতে দিল্লির নাংলোই এলাকায় একটি চলন্ত স্লিপার বাসের ভেতর ৩০ বছর বয়সী এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় রাজধানীজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত বাস চালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করেছে।
ঘটনার ভয়াবহতা:
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা তরুণী পীতমপুরার একটি বস্তি এলাকার বাসিন্দা এবং মঙ্গলপুরীর একটি কারখানায় কাজ করেন। গত ১১ মে রাতে কাজ শেষ করে তিনি পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত তখন গভীর। সরস্বতী বিহার বাস স্ট্যান্ডের কাছে একটি প্রাইভেট স্লিপার বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির কাছে সময় জানতে চান। অভিযোগ, সাহায্য করার বদলে ওই ব্যক্তি তরুণীকে জোরপূর্বক বাসের ভেতরে টেনে নেয়।
রাতভর পাশবিক অত্যাচার:
নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, বাসের ভেতরে টেনে নেওয়ার পরপরই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। নাংলোই মেট্রো স্টেশনের কাছ থেকে বাসটি চলতে শুরু করে। প্রায় ৭ কিলোমিটার পথ বাসটি ঘোরানো হয়। বাসের জানলায় পর্দা থাকায় বাইরে থেকে বোঝার উপায় ছিল না ভেতরে কী নারকীয়তা চলছে। অভিযুক্ত চালক ও কন্ডাক্টর রাতভর ওই তরুণীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। তরুণীর চিৎকার বাসের ইঞ্জিনের শব্দে ঢাকা পড়ে যায়।
রাস্তায় ছুড়ে ফেলে পলায়ন:
নির্যাতিতা পুলিশকে জানিয়েছেন, রাত প্রায় দুটোর দিকে অভিযুক্তরা তাঁকে চলন্ত বাস থেকে রাস্তার ধারে ছুড়ে ফেলে দিয়ে চম্পট দেয়। কোনোক্রমে নিজেকে সামলে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাসের চালক ও কন্ডাক্টরকে চিহ্নিত করে এবং তাঁদের শ্রীঘরে পাঠায়।
দিল্লির এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে রাতের শহরে মহিলাদের নিরাপত্তা আজও কতটা ঠুনকো। অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।





