দিল্লির বুকে এক নারকীয় ও শিউরে ওঠা হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল দেশবাসী। পুত্রসন্তান না হওয়ার ‘অপরাধে’ এক অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবং তাঁর তিন নিষ্পাপ শিশুকন্যাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে খুনের অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে খবর, মেহরাউলির একটি ফ্ল্যাটে উদ্ধার করা হয় চারজনের নিথর দেহ। বীভৎসতা এতটাই ছিল যে, ঘাতক ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের গলা এমনভাবে ফালাফালা করেছিল যে শ্বাসনালী পর্যন্ত কেটে বাইরে বেরিয়ে এসেছিল।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ প্রথমে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের কোনো তত্ত্ব খতিয়ে দেখলেও, পরে তদন্তকারী অফিসারদের সামনে উঠে আসে এক ভয়ঙ্কর তথ্য। অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত গৃহবধূর ওপর পুত্রসন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিনের চাপ ছিল। কিন্তু দম্পতির ইতিমধ্যেই তিনটি কন্যাসন্তান ছিল এবং স্ত্রী আবারও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় ওই ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পুলিশের অনুমান, চতুর্থ সন্তানটিও হয়তো কন্যা হবে—এই অন্ধ কুসংস্কার আর আক্রোশ থেকেই সে মধ্যরাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজের পরিবারের সবাইকে শেষ করে দেয়। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আঘাতের গভীরতা দেখে বোঝা যাচ্ছে খুনি কতটা উন্মত্ত ছিল। আপাতত অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এই ঘটনা আবারও দেশের রাজধানীতে নারী সুরক্ষা ও লিঙ্গবৈষম্যের অন্ধকার দিকটিকে প্রকট করে তুলেছে।