দিল্লিতে অধ্যাপিকার রহস্যমৃত্যু, ফ্ল্যাট থেকে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই জালে অভিযুক্ত দম্পতি!

দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভে অবস্থিত সত্যম অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপিকার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় দু’দিনের মধ্যেই বড় সাফল্য পেল পুলিশ। এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত পশ্চিমবঙ্গের এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহত দেবস্মিতা পাল দিল্লির শিবাজী কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা ছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির শিক্ষামহলে যেমন শোকের ছায়া নেমেছে, তেমনই খুনের ধরন দেখে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। অধ্যাপিকার বোন দেবারতি বেশ কয়েকবার দিদিকে ফোন করেও কোনো সাড়া পাচ্ছিলেন না। দিদির সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি উদ্বেগ নিয়ে সরাসরি বসুন্ধরা এনক্লেভে ওই ফ্ল্যাটে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, ফ্ল্যাটের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। সন্দেহ হওয়ায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই তাঁর চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিভীষিকাময় দৃশ্য। ঘরের ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল দেবস্মিতা পালের দেহ। তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং কব্জির শিরাও কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, এটি কোনোভাবেই সাধারণ মৃত্যু নয়, বরং এক সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন ফ্ল্যাটের অবস্থা দেখে অবাক হয়ে যান। ঘরের ভেতর গয়না ও নগদ অর্থ অটুট ছিল। আলমারি বা সিন্দুক ভাঙার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এই সূত্র থেকেই পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, লুণ্ঠনের উদ্দেশ্যে এই খুন করা হয়নি। তদন্তের মোড় ঘুরে যায় ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনো গভীর সম্পর্কের টানাপোড়েনের দিকে। ঘটনার পর থেকে দিল্লি পুলিশ বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল কল রেকর্ড এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করতে শুরু করে। দীর্ঘ তল্লাশি ও তথ্যপ্রমাণ যাচাইয়ের পর পুলিশ পশ্চিমবঙ্গের এক দম্পতিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

সংশ্লিষ্ট দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ধৃতদের নাম বা অধ্যাপিকার সঙ্গে ঠিক কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, সে বিষয়ে এখনও মুখ খোলা হয়নি। তদন্তকারী দলের মতে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই খুনের মূল মোটিভ বা কারণটি পরিষ্কার হয়ে যাবে। অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পাল ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন, অন্যদিকে তাঁর স্বামী কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে থাকায় এই খুনের নেপথ্যে কোনো বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দিল্লির নামী কলেজের এক শিক্ষিকার এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে সহকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বয়ান রেকর্ড করার পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ যাচাইয়ের কাজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy