বিজেপির অন্দরে গত কয়েক বছরে বারবার কোণঠাসা হতে দেখা গিয়েছে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। এমনকি লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্র বদল এবং হারার পর দলের একাংশের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ছবিটা যেন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল। সোমবার আসানসোলের কুলটিতে পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী ও স্মৃতি ইরানির পাশে সেই দিলীপ ঘোষকেই সবথেকে বেশি সক্রিয় দেখা গেল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ ঘোষকে গুরুত্ব দেওয়া বিজেপির একটি সুপরিকল্পিত চাল। দলের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে তাঁর যে গ্রহণযোগ্যতা এবং মেঠো বক্তৃতার যে ধার, তা অন্য অনেক নেতার চেয়ে বেশি কার্যকর। বিশেষ করে যখন নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তখন দিলীপ ঘোষকে সামনে রাখা আসলে কর্মীদের চাঙ্গা করার কৌশল।
এদিন কুলটির মঞ্চ থেকে সেই চেনা মেজাজেই তৃণমূলকে বিঁধেছেন দিলীপ। তিনি বলেন, “দিলীপ ঘোষ কোনোদিন ভয় পায়নি, আর পাবেও না। বাংলার পরিবর্তনের লড়াইয়ে আমাদের বুথ কর্মীরাই শেষ কথা বলবে।” শুভেন্দু অধিকারী বা শমীক ভট্টাচার্যের মতো নেতাদের পাশাপাশি দিলীপ ঘোষের এই প্রত্যাবর্তন বিজেপির অন্দরে ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।