চণ্ডীগড়: উৎসবের দিনে মর্মান্তিক ঘটনা চণ্ডীগড়ে। সোমবার সকালে সেক্টর ৪০-এর একটি বাড়িতে ৩২ বছর বয়সী এক যুবক কথিত পারিবারিক বিবাদের জেরে তার ৫৫ বছর বয়সী বিধবা মাকে নৃশংসভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত ওই মহিলার নাম সুশীলা নেগি, যিনি পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটির কর্মী রবি নেগির সঙ্গে থাকতেন। তাঁর বড় ছেলে বিদেশে থাকেন বলে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে।
সামান্য ঝগড়া থেকে নৃশংস খুন
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার সকালে মা ও ছেলের মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়। সেই বিবাদ মুহূর্তের মধ্যে সহিংস রূপ নেয়। রাগের মাথায় রবি নেগি একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মায়ের গলা কেটে দেন বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই সুশীলা নেগিকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
রক্তে ভেজা দেহ ফেলে পালাল অভিযুক্ত
নৃশংস এই অপরাধ করার পর অভিযুক্ত রবি নেগি তার মায়ের দেহ রক্তের বন্যায় ফেলে রেখেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
এর আগে প্রতিবেশীরা ঝামেলা ও চিৎকার শুনেছিলেন। পরে তাঁরা রক্ত দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে সেক্টর ৩৯ থানার পুলিশ এবং সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (CFSL)-এর বিশেষজ্ঞরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুরো এলাকা সিল করে দেওয়া হয় এবং ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
মামলা রুজু, অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি
সেক্টর ৩৯ থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ধারা ১০৩ (খুন)-এর অধীনে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। নিহত সুশীলা নেগির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য সেক্টর ১৬-এর গভর্মেন্ট মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতালে (GMSH) পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, খুনের পর থেকেই রবি নেগি পলাতক। তাকে ধরতে পুলিশের একাধিক দল গঠন করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে সম্ভাব্য উদ্দেশ্য, যেমন পারিবারিক বিবাদ বা আর্থিক সমস্যা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার জন্য সব রকম চেষ্টা চলছে এবং পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
পারিবারিক বা আর্থিক বিবাদ এমন চরম পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া কি শুধুমাত্র আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমেই ঠেকানো সম্ভব? আপনার কী মনে হয়, এমন সংঘাত এড়াতে সমাজের ভূমিকা কী হওয়া উচিত?