২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার সাথে সাথেই বাংলার আকাশ-বাতাস রাজনৈতিক তর্জায় উত্তপ্ত। সোমবার খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী তথা দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন। তাঁর সাফ দাবি, মুর্শিদাবাদে যে অশান্তি ছড়িয়েছে, তার নেপথ্যে রয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর প্ররোচনামূলক ভাষণ।
দিলীপের বিস্ফোরক বয়ান: খড়গপুরে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, “মুখ্যমন্ত্রী নিজে চেয়ারে বসে এক বিশেষ সম্প্রদায়কে উস্কানি দিচ্ছেন। তিনি রামনবমীর মিছিল নিয়ে যে ধরণের মন্তব্য করেছিলেন, তারই ফলশ্রুতি মুর্শিদাবাদের দাঙ্গা। ভোট ব্যাঙ্ক বাঁচাতে তিনি বাংলায় আগুন জ্বালাতে পিছপা হন না।” দিলীপের মতে, পুলিশ ও প্রশাসনকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে রেখে একতরফাভাবে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে, আর এর পুরো ‘অবদান’ বা মাস্টারমাইন্ড হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব: দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, দিলীপ ঘোষ পরাজয় নিশ্চিত জেনেই মেরুকরণের রাজনীতি করতে চাইছেন। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও কুণাল ঘোষরা পাল্টা অভিযোগে জানিয়েছেন, বিজেপিই বহিরাগতদের এনে মুর্শিদাবাদে অশান্তি পাকিয়েছে এবং এখন মুখ্যমন্ত্রীর ওপর দোষ চাপাচ্ছে। শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও তাঁরা জানান।
ভোটের ময়দানে সাম্প্রদায়িক ছায়া: মুর্শিদাবাদ বরাবরই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। নির্বাচনের ঠিক আগে সেখানে অশান্তি এবং তা নিয়ে দিলীপ ঘোষের এই ‘বিস্ফোরক’ আক্রমণ নিশ্চিতভাবেই নির্বাচনী সমীকরণ বদলে দিতে পারে। খড়গপুর সদরের প্রার্থী হিসেবে দিলীপের এই আগ্রাসী মেজাজ তাঁর নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ককে সংহত করার চেষ্টা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না।