দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী মনোভাব এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের পথ রক্ষায় এবার সামরিক শক্তিতে দ্বিগুণ গতিতে বিনিয়োগ করছে ইন্দোনেশিয়া। ইতিমধ্যে ভারত থেকে শক্তিশালী ‘ব্রহ্মোস’ ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের পথে হাঁটার পর, এবার দক্ষিণ কোরিয়ার অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘এমএসএএম-২ চেওংগুং-২’ (MSAM-II Cheongung-II) কেনার প্রস্তুতি নিল জাকার্তা।
কী এই ‘চেওংগুং-২’? ‘কেএম-স্যাম ব্লক ২’ (KM-SAM Block II) নামে পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটি দক্ষিণ কোরিয়ার এক আধুনিক সৃষ্টি। এটি একটি মাঝারি পাল্লার ভূমি-থেকে-আকাশে নিক্ষেপযোগ্য (SAM) সিস্টেম, যা মূলত শত্রুদেশের যুদ্ধবিমান, ড্রোন, এমনকি ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের লজিস্টিকস বিভাগ ইতিমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এলআইজি নেক্স১’-এর অঙ্গসংগঠনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘লেটার অফ ইন্টারেস্ট’ জারি করেছে।
চুক্তি ও প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য: যদিও এই আগ্রহপত্রটি ইন্দোনেশিয়াকে আইনত ক্রয়ের জন্য বাধ্য করে না, তবে এর মধ্য দিয়ে জাকার্তার কৌশলগত দূরদর্শিতা স্পষ্ট। চুক্তির প্যাকেজে থাকছে:
অত্যাধুনিক মাল্টি-ফাংশন রাডার ও এনগেজমেন্ট কন্ট্রোল স্টেশন।
ভার্টিক্যাল লঞ্চ সিস্টেম ও মিসাইল ট্রান্সলোডার ভেহিকল।
প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুবিধা, যার মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া তাদের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করতে পারবে।
কেন এই তাড়াহুড়ো? দক্ষিণ চীন সাগরে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ বা ‘চোকপয়েন্ট’-গুলোর নিরাপত্তা এখন ইন্দোনেশিয়ার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। ক্রমবর্ধমান আকাশপথে যুদ্ধের ঝুঁকি এবং ড্রোন হামলার প্রবণতা রুখতেই এই বহুমুখী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে জাকার্তা। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ব্রহ্মোস এবং কোরিয়ার চেওংগুং-২—এই দুইয়ের সমন্বয় ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমাকে আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি সুরক্ষিত করে তুলবে।
চিনের আধিপত্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে ইন্দোনেশিয়ার এই সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





