জুন মাসের শুরুতেই প্রবল গরমে নাজেহাল দক্ষিণবঙ্গ। একদিকে উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও ডুয়ার্সের জেলাগুলোতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে অস্বস্তিকর গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া—এমনই বিপরীতমুখী পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া দফতর। ২ ও ৩ জুন দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২ জুন দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। শহর কলকাতা ও হাওড়ার অবস্থা বেশ উদ্বেগজনক; এখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একই চিত্র দেখা যেতে পারে দমদম ও কৃষ্ণনগরের মতো এলাকাতেও। এছাড়া পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ৩ জুন এই তাপমাত্রা আরও বেড়ে কলকাতা ও হাওড়ায় সর্বোচ্চ ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যেতে পারে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ খানিকটা বেশি। উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে আর্দ্রতাজনিত কারণে তীব্র অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকবে।
দক্ষিণবঙ্গের এই যখন হাল, ঠিক উল্টো ছবি উত্তরবঙ্গে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের মতো জেলাগুলোতে ২ ও ৩ জুন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শুধু বৃষ্টি নয়, এই জেলাগুলোতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলেও সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস। উত্তরবঙ্গের এই জেলাগুলোতে আবহাওয়া বেশ উত্তাল থাকলেও দক্ষিণবঙ্গ কার্যত কাঠফাটা রোদে পুড়বে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি এখনও সেভাবে তৈরি হয়নি, যার ফলে দিনের বেলা তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি না হলেও, আর্দ্রতার কারণে ঘর্মাক্ত ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। যারা বাইরে কাজ করেন বা যাঁদের দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকতে হয়, তাঁদের জন্য আপাতত স্বস্তির কোনো বার্তা নেই আবহাওয়া অফিসের কাছে।
সতর্কতা হিসেবে বিকেলের দিকে বা দুপুরে প্রচণ্ড রোদে বেরোনোর সময় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের জন্য এই ভ্যাপসা গরম বেশ কষ্টদায়ক হতে পারে। উত্তরবঙ্গে যারা পর্যটনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তা মাথায় রেখে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ের দিকে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটকদের। সামগ্রিকভাবে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা দক্ষিণবঙ্গবাসীকে গরমে আরও কিছুটা সময় কাটাতে হবে, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গবাসীকে মোকাবিলা করতে হবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের।





