থানা সামলাবে নতুন মুখ! ভোটের ডিউটির আগে পুলিশের শীর্ষস্তরে বড় রদবদল, তালিকায় কারা?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার ঠিক আগের মুহূর্তে রাজ্য পুলিশে বড়সড় রদবদল করল নবান্ন। নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) পুরোদমে কার্যকর হওয়ার আগেই প্রশাসনিক স্তরে এই পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নবান্ন ও ভবানী ভবনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের একাধিক ইন্সপেক্টর এবং অন্তত ১২টি গুরুত্বপূর্ণ থানার আইসি-কে (IC) তাঁদের বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে নতুন জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হয়েছে।

১২ থানার আইসি বদল: সূত্রের খবর, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বদল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কলকাতা সংলগ্ন ব্যারাকপুর, বিধাননগর এবং হাওড়া কমিশনারেটের অধীনে থাকা বেশ কিছু থানা। এছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম এবং মালদা জেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ থানার আইসি-দেরও রদবদল করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে একে ‘রুটিন বদলি’ বলা হলেও, ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই অভিজ্ঞ আধিকারিকদের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে।

১০০-র বেশি ইন্সপেক্টর স্তরে রদবদল: আইসি-দের পাশাপাশি ইন্সপেক্টর স্তরেও বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রায় ১০০-র বেশি ইন্সপেক্টরকে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বা এক কমিশনারেট থেকে অন্য কমিশনারেটে বদলি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পুলিশ আধিকারিক যদি দীর্ঘ সময় এক জায়গায় থাকেন, তবে ভোটের আগে তাঁদের বদলি করা বাধ্যতামূলক। সেই নিয়ম মেনেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রশাসনের তৎপরতা: ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং আইজিপি-র নির্দেশে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত নতুন দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ রবিবারই নির্বাচন কমিশন বাংলার ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে। তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই পুলিশের এই বিশাল রদবদল কার্যত প্রশাসনের চূড়ান্ত প্রস্তুতিকেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে। নবান্নের লক্ষ্য, ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলার যাতে কোনো অবনতি না ঘটে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে রাজ্য পুলিশ যাতে মসৃণভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy