থানায় ঢুকে ওসির মুখোমুখি শুভেন্দু! ‘সতর্ক করে দিয়ে গেলাম’, মহিষাদলে রণংদেহি বিরোধী দলনেতা

পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল থানাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে ছড়িয়ে পড়ল তীব্র চাঞ্চল্য। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আচমকাই সপার্ষদ মহিষাদল থানায় ঢুকে কার্যত থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে (OC) কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন। তাঁর অভিযোগ, মহিষাদলের ‘অভিমানী’ বিজেপি নেতা বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে ভয় দেখাচ্ছেন এবং তৃণমূলের হয়ে দল ভাঙানোর প্রলোভন দিচ্ছেন খোদ থানার ওসি।

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, বিশ্বনাথবাবু দলের একজন পুরনো ও নিষ্ঠাবান কর্মী। কিছু কারণে তিনি দলের ওপর অভিমান করে ঘরে বসেছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মহিষাদল থানার ওসি তাঁকে ফোন করেন এবং তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এই খবর কানে আসতেই মেজাজ হারান শুভেন্দু। থানায় ঢুকে ওসির চেম্বারে দাঁড়িয়ে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “পুলিশের কাজ আইন রক্ষা করা, তৃণমূলের দালালি করা নয়। সতর্ক করে দিয়ে গেলাম, ভবিষ্যতে এমন হলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হবে।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও জানিয়েছেন, তাঁকে ফোন করে নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, বিজেপির অন্দরে প্রবল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলছে, আর শুভেন্দু অধিকারী নিজের ঘর সামলাতে না পেরে পুলিশের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে পূর্ব মেদিনীপুরের অধিকারী গড়ে পুলিশের এই কথিত ‘সক্রিয়তা’ এবং শুভেন্দুর পাল্টা ‘হুঁশিয়ারি’ জেলা রাজনীতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy