আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে পারদ চড়ছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলতি যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের “বোমা বিস্ফোরণ”-এর হুঁশিয়ারি বিশ্ব বাজারে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে কিছুটা কমল অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম। ভারতের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দামের ওপর এর প্রভাব কী পড়বে, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।
ট্রাম্পের সতর্কবার্তা ও হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা
সম্প্রতি মার্কিন নৌবাহিনী একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দ করার পর থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। এদিকে, বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে টানাপোড়েন চলায় সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে সোমবারের তুলনায় মঙ্গলবার সকালে তেলের দামে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেছে।
এক নজরে আজকের তেলের দর:
WTI অপরিশোধিত তেল: ব্যারেল প্রতি ০.৮৭ ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ৮৬.৬৩ ডলারে।
ব্রেন্ট (Brent) ক্রুড: ব্যারেল প্রতি দর নেমে এসেছে ৯৫.০৯ ডলারে।
ভারতের মহানগরীগুলোতে আজকের পেট্রোল-ডিজেলের দাম (প্রতি লিটার):
| শহর | পেট্রোল (টাকা) | ডিজেল (টাকা) |
| কলকাতা | ১০৫.৪৫ | ৯১.৮১ |
| দিল্লি | ৯৪.৭৭ | ৮৭.৬৭ |
| মুম্বাই | ১০৩.৫৪ | ৯০.০৩ |
| চেন্নাই | ১০০.৮৪ | ৯২.৪৮ |
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব কী?
সরকার আবগারি শুল্ক কমিয়ে তেল কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ কমানোয় বর্তমানে ভারতের বাজারে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যদি বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং দীর্ঘসময় সেই স্তরে থাকে, তবে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ানো ছাড়া তেল কোম্পানিগুলোর কাছে অন্য পথ থাকবে না। ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে আপনার যাতায়াতের খরচ।





