বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়ল জ্বালানি বাজারে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের (Brent Crude) দাম ব্যারেল প্রতি ১০৩.৪৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত দুই বছরের মধ্যে তেলের দামের এই উল্লম্ফন সবথেকে বড় রেকর্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বিশ্ববাজারে তেলের এই ‘আগুন’ দাম বজায় থাকলে ভারতেও পেট্রোল ও ডিজেলের দামে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে।
কেন হঠাৎ এই দাম বৃদ্ধি? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আকাশছোঁয়া দামের পিছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করছে:
-
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাতের ফলে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
-
ওপেক প্লাস (OPEC+)-এর সিদ্ধান্ত: তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত বজায় রাখায় বাজারে তেলের জোগান চাহিদার তুলনায় কমেছে।
-
রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা: ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার তেলের ওপর পশ্চিমী দেশগুলোর নতুন কড়াকড়ি বিশ্ববাজারে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি করেছে।
ভারতে কী প্রভাব পড়বে? ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৮৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সরকারি তেল সংস্থাগুলোর (IOC, BPCL, HPCL) ওপর চাপ বাড়বে। যদিও উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সরকার এখনই দাম বাড়াতে চাইবে না, তবে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে ভতুর্কি বাড়ানো বা লিটার প্রতি ৫-৭ টাকা দাম বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
শেয়ার বাজারে ধস: তেলের দাম ১০০ ডলার পার হতেই বুধবার মুম্বই শেয়ার বাজারে (BSE Sensex) পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে অটোমোবাইল, রং শিল্প এবং বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোর শেয়ারে লাল সংকেত দেখা দিয়েছে।