২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের জনসভা থেকে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বিতর্কিত মন্তব্য করলেন তিনি। সরাসরি সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যদি তৃণমূল না থাকে, তবে আপনারা কিচ্ছু পাবেন না। শুধু জুটবে অত্যাচার।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ। তৃণমূল না থাকলে বাংলার মানুষ কী কী হারাবেন, তার একটি লম্বা তালিকাও এদিন পেশ করেন মমতা।
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, রাজ্যের ক্ষমতায় বিজেপি বা অন্য কোনো দল এলে সবথেকে আগে কোপ পড়বে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে। তিনি দাবি করেন, মা-বোনেরা যে মাসিক আর্থিক সাহায্য পাচ্ছেন, তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়াও ‘কন্যাশ্রী’, ‘রূপশ্রী’ এবং পড়ুয়াদের জন্য দেওয়া ‘স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’-এর ভবিষ্যৎ নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। মমতার কথায়, “বিনামূল্যে রেশন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসা— এই সবকিছুই কেড়ে নেবে বিজেপি। ওরা এলে শুধু সিবিআই, ইডি আর অত্যাচার ছাড়া আর কিছুই জুটবে না।”
পাণ্ডবেশ্বরের এই সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মূলত উন্নয়নের নিরিখে ভোট দেওয়ার আর্জি জানান। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, কেন্দ্রের বঞ্চনা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার নিজের তহবিল থেকে রাস্তাঘাট এবং বার্ধক্য ভাতার টাকা মেটাচ্ছে। বিরোধীরা অবশ্য মমতার এই বয়ানকে ‘ভয়ের রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছে। বিজেপির দাবি, পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই মুখ্যমন্ত্রী এখন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি বন্ধ হওয়ার ভয় দেখাচ্ছেন। তবে ভোটের আগে মমতার এই ‘হুঁশিয়ারি’ আমজনতার মনে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।