তৃণমূল না কি বিজেপি, কার দখলে নবান্ন? ‘প্রজা পোল’-এর এক্সিট পোলে অবিশ্বাস্য ইঙ্গিত, তোলপাড় রাজ্য!

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে রেকর্ড ৯১.৩ শতাংশ ভোটদানের পর বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ঠিক এই আবহে প্রকাশিত হলো ‘প্রজা পোল অ্যানালিটিক্স’-এর বুথ ফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোল। আর সেই রিপোর্ট সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এবার বড়সড় ওলটপালটের সংকেত মিলছে।

বিজেপি কি সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে? প্রজা পোল অ্যানালিটিক্স-এর সমীক্ষা বলছে, এবার বাংলায় পরিবর্তনের হাওয়া অত্যন্ত প্রবল। গেরুয়া শিবির অর্থাৎ বিজেপি পেতে পারে ১৫০ থেকে ১৬৫টি আসন। যা ২৯৪ আসনের বিধানসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮-এর ম্যাজিক ফিগার অনায়াসেই পার করে দিচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু ‘সুইং সিট’ এবার বিজেপির দখলে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ধস? অন্যদিকে, চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফেরার লড়াইয়ে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, শাসক দল ১১০ থেকে ১২৫টি আসনের মধ্যে আটকে থাকতে পারে। ভোট শতাংশের হিসেবে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে লড়াই অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হলেও আসনের নিরিখে বিজেপি অনেকটা এগিয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করছে এই সংস্থা।

বাম-কংগ্রেস কি ফ্যাক্টর? সমীক্ষায় বাম-কংগ্রেস জোটের খুব একটা আশাব্যঞ্জক ফল দেখা যাচ্ছে না। তারা মাত্র ৫ থেকে ১০টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত রাজ্যের লড়াই যে দ্বি-পাক্ষিক হতে চলেছে, এক্সিট পোলের পরিসংখ্যান তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কেন এই ওলটপালট? বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ ভোটদানের হার সাধারণত পরিবর্তনের ইঙ্গিতবাহী। এছাড়া সিএএ (CAA), দুর্নীতি বিরোধী হাওয়া এবং প্রান্তিক এলাকায় বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এই ফলাফলের পেছনে বড় কারণ হতে পারে। তবে প্রজা পোল-এর এই সমীক্ষা শেষ কথা নয়, আসল ভাগ্য নির্ধারণ হবে আগামী ৪ মে।

এক্সিট পোলের এই চমকপ্রদ পূর্বাভাস কি বাস্তবে মিলবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি পারবেন চতুর্থবার শপথ নিতে, নাকি দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা বিজেপি এবার নবান্ন দখল করবে? উত্তর দেবে ৪ মে-র ফলাফল।


Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy