লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। একসময় কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া নেতাদের ‘ঘরওয়াপসি’ বা কংগ্রেসে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছেন মালদার কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী। আর এই পোস্টকে কেন্দ্র করেই এখন জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
পোস্টের নেপথ্যে কী বার্তা? ইশা খান চৌধুরীর সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে স্পষ্ট, তিনি কেবল পুরনো ও বিশ্বস্ত নেতাদেরই কংগ্রেসে ফিরিয়ে আনার পক্ষে। তবে এক্ষেত্রে তাঁর শর্ত খুব পরিষ্কার—দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কোনোভাবেই ‘দাগী’ বা বিতর্কিত নেতাদের জায়গা দেওয়া হবে না। যারা একসময় দলবদল করেছিলেন, তাদের মধ্যে থেকে কাদের নেওয়া হবে এবং কাদের নেওয়া হবে না, তা চিহ্নিত করার জন্য ইতিমধ্যেই দলীয় স্তরে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চায়েত ভোটের আগে রণকৌশল: বিশেষ করে আসন্ন ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনকে মাথায় রেখেই এই রণকৌশল সাজাচ্ছেন ইশা খান চৌধুরী। কংগ্রেসের অন্দরে এখন নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের অতীত কার্যকলাপ ও সাংগঠনিক দক্ষতা খতিয়ে দেখার পরই তাদের কংগ্রেসে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও দুর্নীতির অভিযোগের আবহে কংগ্রেস সেই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ঘর গোছাতে চাইছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ: ইশা খানের এই বার্তায় স্পষ্ট, তৃণমূল থেকে আসা সব নেতাকে দল আর স্বাগত জানাতে রাজি নয়। বরং অত্যন্ত বাছাই করা কৌশলে পুরনো কর্মীদের ফিরিয়ে এনে কংগ্রেস তাদের সাংগঠনিক শক্তিকে ফের পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছে। এই ‘ঘরওয়াপসি’ প্রক্রিয়াটি শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের জন্য কতটা চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।





