রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের হাওয়া এখন ক্রীড়া ও প্রশাসনিক মহলের প্রতিটি কোণে। গত ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলার প্রতিটি স্তরে শুরু হয়েছে ব্যাপক রদবদল। শুক্রবার কলকাতার মেয়রের পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পরেই রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছিল প্রবল জল্পনা। সেই জল্পনা আরও তীব্র হলো শনিবার, যখন জানা গেল যে, মেয়র পদের পাশাপাশি রাজ্যের ভলিবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম।
উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যের ভলিবল অ্যাসোসিয়েশনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন ফিরহাদ। প্রায় এক বছরের কিছু কম সময় এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার পর তিনি সরে দাঁড়ালেন। ক্রীড়ামহলের একাংশের মতে, রাজ্যের ক্ষমতা পরিবর্তনের ঠিক পরেই ক্রীড়া সংগঠনগুলিতে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছিল। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে নিশীথ প্রামাণিকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের ক্রীড়া প্রশাসন ও সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একের পর এক ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও সংগঠকদের পদত্যাগ সেই পরিবর্তনেরই পূর্বাভাস।
অতীতে একাধিকবার শোনা গিয়েছিল, বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজ্যের ভলিবল খেলার যাবতীয় সমস্যা মিটিয়ে ফেলবেন ফিরহাদ হাকিম। ক্রীড়াপ্রেমীদের বহু আশা ছিল তাঁর কাছে। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্য মোড় নেয়। রাজনৈতিক মহলে ভরাডুবির পর তাঁকে ক্রীড়াক্ষেত্রে সেভাবে আর সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহলে। আর শুক্রবার দুপুরেই মেয়র পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার চব্বিশ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই এই দ্বিতীয় পদত্যাগ যেন সেই জল্পনায় সিলমোহর দিল।
ফিরহাদ হাকিমের এই পদত্যাগকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। যদিও সরকারিভাবে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু রাজনীতির কারবারিরা মনে করছেন, এটি নিছক ঘটনা নয়, বরং রাজ্যের ক্রীড়া সংগঠনে নতুন করে প্রভাব বিস্তারের লড়াই। ক্রীড়ামহলের একাংশ মনে করছে, ফিরহাদের সরে যাওয়ার ফলে বাংলার ভলিবল খেলার প্রশাসনিক কাঠামোতে এবার বড় পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগবে।
এখন বড় প্রশ্ন হলো, মেয়রের মতো একটি সম্মানজনক পদ এবং ভলিবলের মতো একটি জনপ্রিয় খেলার সংগঠনের সভাপতির পদ কেন এভাবে পরপর ছাড়তে হলো তাঁকে? বিরোধী দলগুলির দাবি, নৈতিক পরাজয় স্বীকার করেই তিনি একের পর এক দায়িত্ব থেকে সরে আসছেন। অন্যদিকে, ক্রীড়াপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে রয়েছেন সেই নতুন পরিবর্তনের দিকে, যা হয়তো বাংলার ক্রীড়ামহলকে এক নতুন দিশা দেখাতে পারে। সব মিলিয়ে, রাজ্য রাজনীতি ও ক্রীড়াঙ্গন এখন ফিরহাদ হাকিমের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।





