তৃণমূলের ‘তোলাবাজ’দের রক্ষাকবচ বিকাশ ভট্টাচার্য? তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্টে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

আইনি পেশা নাকি রাজনৈতিক আদর্শ? রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সী ও তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর হয়ে আদালতে সওয়াল করার পরই প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রবীণ আইনজীবী ও সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। আয় বহির্ভূত সম্পত্তি মামলায় এই দম্পতিকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও, নেটিজেন এবং দলের একাংশের কাছে এখন রীতিমতো প্রশ্নের মুখে পড়েছেন তিনি।

বিকাশ ভট্টাচার্যের এই ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন বামপন্থী সমর্থক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় সৌরভ পালোধি থেকে তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিরা সরাসরি আক্রমণ করেছেন বিকাশবাবুকে। তাঁদের মূল প্রশ্ন, যিনি রাজপথে নেমে সিন্ডিকেট, তোলাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দেন, তিনিই কীভাবে আদালতে তৃণমূলের ‘তোলাবাজ’ নেতাদের ঢাল হয়ে দাঁড়াচ্ছেন?

তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে লিখেছে, “বিকাশবাবু, উকিল হিসেবে সিন্ডিকেটের পক্ষে দাঁড়ানো আর যাদবপুরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভাষণ দেওয়া—এগুলো কি একসঙ্গে যায়?” তিতাস তাঁর পোস্টে ২০২২ সালের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যখন বিকাশ ভট্টাচার্য এক সাংবাদিকের মামলা লড়তে অস্বীকার করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ভোটপ্রচারের সময় তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়, উকিলের জার্সি গায়ে সেই তৃণমূল নেতাদেরই নিরাপত্তা দেওয়া কতটা নৈতিক? এই ঘটনার পর থেকেই দলের অন্দরে ও বাইরে বিকাশবাবুর ‘কমরেডশিপ’ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

যদিও আইনজীবী মহলের একাংশের দাবি, পেশাগত দায়বদ্ধতা থেকে আইনজীবী যেকোনো মক্কেলের হয়ে সওয়াল করতে পারেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিকাশরঞ্জনের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। তিনি শুধুমাত্র একজন আইনজীবী নন, তিনি বাম রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ। আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে অসহায় বাম সমর্থক—সবার কাছেই তিনি বড় ভরসার জায়গা। তাই অদিতি-দেবরাজের মতো ‘তৃণমূলী’ দম্পতির হয়ে তাঁর আদালতে দাঁড়ানোকে অনেকে দলের আদর্শের সঙ্গে আপস হিসেবেই দেখছেন।

উল্লেখ্য, অদিতি ও দেবরাজের সম্পত্তির পাহাড় নিয়ে তৃণমূল জমানাতেই নানা গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। সেই মামলায় বিকাশবাবুর উপস্থিতিকে অনেকেই তৃণমূল-বাম গোপন বোঝাপড়া হিসেবেও ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন। যদিও বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ব্যক্তিগতভাবে এই সমালোচনার কোনো উত্তর দেননি, কিন্তু তাঁর এই পদক্ষেপ যে দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ও আস্থায় বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক ও আইনি জীবনের এই দ্বন্দ্বে বিকাশবাবু কীভাবে নিজেকে সামলান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy