পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা দীর্ঘ টানাপোড়েন এবার গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সিদ্ধান্তকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাল তৃণমূল কংগ্রেস।
মামলার প্রেক্ষাপট: সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর থেকেই দলের অন্দরে ভাঙনের সুর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই ভাঙনের সুযোগ নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার দাবি জানায় বিদ্রোহী বিধায়কদের একটি বড় অংশ। সূত্রের খবর, ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ঋতব্রত স্পিকারের কাছে বিরোধী দলনেতা পদের দাবি জানিয়েছিলেন, যাকে স্বীকৃতি দেন স্পিকার। কিন্তু এই পুরো প্রক্রিয়াকেই অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের মূল অংশ।
হাইকোর্টে কেন মামলা? তৃণমূলের পরিষদীয় নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই মামলার আবেদন করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক নিয়মাবলি এবং সংসদীয় রীতিনীতি মানা হয়নি। এই বিতর্কিত নিয়োগের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চে এই মামলাটি দায়ের করার অনুমতি মিলেছে এবং আগামী ১১ জুন এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
রাজনীতির সমীকরণ: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের এই পরিস্থিতি কার্যত অস্তিত্ব সংকটের মুখে ফেলেছে দলটিকে। একদিকে দলের অধিকাংশ বিধায়কের বিদ্রোহ, অন্যদিকে আদালতের দরজা—এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তী কৌশল কী হয়, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে জল্পনা।
বিধানসভার অধিবেশন শুরু হতে চলেছে আগামী ১৮ জুন। তার আগেই আদালত এই বিষয়ে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।





