একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও কুসংস্কারের থাবায় পিষ্ট মানবিকতা। “তুকতাক করার জন্যই ছেলে সন্তান হচ্ছে না”—এই অদ্ভুত এবং ভিত্তিহীন সন্দেহের বশে নিজের স্ত্রীর ওপর নারকীয় অত্যাচার চালালেন এক ব্যক্তি। ঘটনার নৃশংসতা দেখে শিউরে উঠেছেন প্রতিবেশীরা। বর্তমানে ওই গৃহবধূ আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই দম্পতির দীর্ঘদিনের বিবাহিত জীবনে কেবল কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযোগ, একটি ছেলে সন্তানের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন স্বামী। সম্প্রতি তিনি স্থানীয় এক ওঝার শরণাপন্ন হন। সেই ওঝাই নাকি তাকে বোঝায় যে, তার স্ত্রী বাড়িতে ‘তুকতাক’ বা কালো জাদু করেন, আর সেই কারণেই তাদের কোনো ছেলে হচ্ছে না। এরপর থেকেই স্ত্রীর ওপর শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। গত রাতে সেই অত্যাচার চরমে পৌঁছায়।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, হঠাৎই ওই বাড়ি থেকে আর্তচিৎকার শুনতে পান তারা। ছুটে গিয়ে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছেন ওই মহিলা, আর তার স্বামী তখনও তার ওপর চড়াও হয়ে আছেন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, মহিলার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।
পুলিশি জেরায় অভিযুক্ত স্বামী তার অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। ওঝার প্ররোচনাতেই যে তিনি এই কাজ করেছেন, তাও জানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনা আরও একবার সমাজবিজ্ঞানীদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে—বিজ্ঞানের যুগেও ওঝা-গুনিন আর অন্ধবিশ্বাসের কুপ্রভাব কীভাবে একটি সাজানো সংসার ছারখার করে দিতে পারে, এই ঘটনা তার জ্বলন্ত উদাহরণ। পুলিশ এখন ওই ভণ্ড ওঝার সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।