মার্চের মাঝামাঝি থেকেই চড়তে শুরু করেছে পারদ। ৪৫ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই গরমে মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়, সেখানে বাগানের আদরের গোলাপ গাছগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয়। প্রখর রোদ, বাতাসে আর্দ্রতার অভাব আর লু-হাওয়ার দাপটে অনেক সময়ই দেখা যায় গোলাপ গাছ শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একটু সচেতন হলেই এই তীব্র দাবদাহেও আপনার বাগান থাকবে ফুলে ভরা। লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞ সায়নীতা চক্রবর্তী জানাচ্ছেন এমন ৫টি সহজ নিয়ম, যা মানলে চরম গরমেও আপনার গোলাপ গাছ থাকবে হাসিখুশি।
১. জল দেওয়ার সঠিক সময়: গরমকালে জল দেওয়ার অনিয়মই গাছের মৃত্যুর প্রধান কারণ। চড়া দুপুরে ভুল করেও জল দেবেন না। ভোরবেলা অথবা সূর্য ডোবার পর বিকেলে জল দিন। এতে মাটি দীর্ঘক্ষণ আর্দ্র থাকে। খেয়াল রাখবেন যেন গাছের গোড়ায় জল না জমে, আবার মাটি যেন একেবারে পাথর হয়ে শুকিয়েও না যায়।
২. মালচিং বা মাটির সুরক্ষা: তীব্র রোদে মাটির ওপরের স্তর খুব দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং শিকড় তেতে ওঠে। এটি আটকাতে মাটির ওপর শুকনো পাতা, খড় বা নারকেলের ছোবড়া দিয়ে ঢেকে দিন। একেই বলে মালচিং। এটি মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং শিকড়কে ঠান্ডা রাখে।
৩. ছায়ার ব্যবস্থা: গোলাপ রোদ ভালোবাসলেও ৪৫ ডিগ্রির সরাসরি তেজ সইবার ক্ষমতা তার নেই। দুপুরের চড়া রোদ থেকে বাঁচাতে বাগানে ‘শেড নেট’ ব্যবহার করুন। টবে গাছ থাকলে সেগুলিকে বারান্দার অপেক্ষাকৃত কম রোদে রাখা ভালো।
৪. হালকা জৈব সারের ব্যবহার: এই গরমে কড়া রাসায়নিক সার গাছের ক্ষতি করতে পারে। তার বদলে ভার্মিকম্পোস্ট বা পচানো গোবর সারের মতো হালকা জৈব সার ব্যবহার করুন। এতে গাছ প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে কিন্তু অতিরিক্ত উত্তাপে ঝলসে যাবে না।
৫. নিয়মিত ছাঁটাই: গাছের কোনো ডাল বা পাতা শুকিয়ে গেলে তা দ্রুত কেটে ফেলুন। মরা ডাল গাছের শক্তি অহেতুক খরচ করে। নিয়মিত ছাঁটাই করলে গাছ নতুন পাতা ও কুঁড়ি তৈরিতে বেশি শক্তি পায়, ফলে গরমেও ফুল ফোটা বন্ধ হয় না।
শখের বাগানকে মরুভূমি হওয়া থেকে বাঁচাতে আজই এই পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করুন। সামান্য যত্নেই আপনার গোলাপ বাগান হয়ে উঠবে পাড়াপড়শির ঈর্ষার কারণ!