মে মাসের তপ্ত সকালেই কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। তিলজলার এক ঘিঞ্জি এলাকার বহুতলে বিধ্বংসী আগুনের জেরে প্রাণ হারালেন ২ জন। ঘটনায় আরও ৫ জন গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সাতসকালের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার ভয়াবহতা দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখেমুখে এখন কেবলই আতঙ্ক।
ভয়াবহ সেই মুহূর্ত: স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকালে যখন বাসিন্দারা দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই তিলজলার ওই বহুতলের একটি তলা থেকে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন বিধ্বংসী রূপ নেয় এবং গোটা ফ্লোরকে গ্রাস করে ফেলে। ভেতরে থাকা বাসিন্দারা পালানোর পথ পাওয়ার আগেই আগুনের লেলিহান শিখা তাঁদের ঘিরে ধরে। আর্তনাদে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা।
উদ্ধারকাজ ও হতাহত: খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। কিন্তু এলাকাটি ঘিঞ্জি হওয়ায় এবং সরু গলি থাকার কারণে ল্যাডর নিয়ে ঢুকতে দমকল কর্মীদের বেগ পেতে হয়। বেশ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও উদ্ধার করা হয় দুই জনের ঝলসানো মৃতদেহ। বাকি ৫ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, আহতদের শরীরের অনেকটা অংশই পুড়ে গিয়েছে, ফলে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত সংকটজনক।
আগুনের উৎস কী? দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বহুতলটিতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও দমকলের ফরেনসিক দল। বহুতলটির ভেতরে কোনো দাহ্য পদার্থ মজুত করা ছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।
শোকাতুর তিলজলা: সাতসকালের এই দুর্ঘটনা ফের একবার শহরের বহুতলগুলোর অগ্নিসুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। মৃতদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তাঁদের দাবি, ঘিঞ্জি এলাকায় সুরক্ষা বিধি না মানার খেসারত দিতে হলো সাধারণ মানুষকে।
শহরের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নিয়ে কি আমরা সত্যিই সচেতন? নাকি আরও এক বড় বিপর্যয়ের অপেক্ষা করছি?





