মুর্শিদাবাদের রাজনীতির অলিখিত সম্রাট অধীর রঞ্জন চৌধুরী কি এবার দিল্লি থেকে কলকাতার দিকে পা বাড়াচ্ছেন? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। ১৯৯৬ সালে শেষবার বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন তিনি, তারপর দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তিনি ছিলেন সংসদের পরিচিত মুখ। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। নিজের খাসতালুক বহরমপুর পুনরুদ্ধার করতে এবং ঘাসফুল-পদ্ম শিবিরের সাঁড়াশি আক্রমণ রুখতে নিজেই ময়দানে নামার কথা ঘোষণা করলেন অধীর।
বৃহস্পতিবার বহরমপুরে এক ঘরোয়া বৈঠকে অধীর চৌধুরী স্পষ্ট করে দেন যে, এবার তিনি বিধানসভা থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যদিও কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনও আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করেনি, কিন্তু অধীরের এই ‘আগাম’ ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর প্রতিপক্ষ হিসেবে ইতিমধ্যেই ময়দানে রয়েছেন বিজেপির সুব্রত মৈত্র এবং তৃণমূলের নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। অর্থাৎ, বহরমপুরের মাটি এবার এক হাইভোল্টেজ ত্রিমুখী লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত লোকসভা নির্বাচনে ইউসুফ পাঠানের কাছে হারের পর অধীর নিজের অস্তিত্বের লড়াই লড়ছেন। বিধানসভায় জিতে তিনি প্রমাণ করতে চান যে, মুর্শিদাবাদের মানুষের মনে তাঁর জায়গা আজও অটুট। অধীরের এই সিদ্ধান্তে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল এবং বিজেপিও তাঁদের রণকৌশল বদলাতে বাধ্য হচ্ছে। ৩০ বছর পর বিধানসভার আঙিনায় পা রাখা অধীরের জন্য কতটা কণ্টকাকীর্ণ হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই চায়ের দোকানে তুঙ্গে চর্চা।