কূটনৈতিক টানাপোড়েন দূরে সরিয়ে রেখে প্রতিবেশী দেশের চরম সংকটে ফের একবার ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো ভারত। চরম অর্থকষ্ট এবং স্বাস্থ্য সংকটে ধুঁকতে থাকা আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের জন্য বিপুল পরিমাণ জীবনদায়ী ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রী পাঠাল মোদী সরকার। শুক্রবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ বিমানে এই ত্রাণসামগ্রী কাবুলের উদ্দেশে রওনা দেয়।
মানবিকতাকে অগ্রাধিকার দিল্লির আফগানিস্তানে তালিবান শাসন কায়েম হওয়ার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে কাবুলের সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা স্থবিরতা এলেও, সাধারণ আফগান নাগরিকদের প্রতি ভারতের সহমর্মিতা যে বিন্দুমাত্র কমেনি, এই পদক্ষেপ তারই প্রমাণ। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তানে ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) অনুরোধে এবং মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে ভারত এই বিশাল পরিমাণ অ্যান্টি-বায়োটিক, জীবনদায়ী ইনজেকশন এবং শিশুদের প্রয়োজনীয় ওষুধ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কাবুলের কৃতজ্ঞতা স্বীকার কাবুল বিমানবন্দরে ভারতের এই ত্রাণসামগ্রী গ্রহণ করেন আফগান স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। তাঁরা ভারতের এই নিঃস্বার্থ সাহায্যের জন্য নয়া দিল্লিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আফগান জনগণের মধ্যে ভারতের এই ‘সফট পাওয়ার’ বা মানবিক ভাবমূর্তি দীর্ঘকাল ধরেই অত্যন্ত জনপ্রিয়। এর আগেও ভারত কয়েক হাজার টন গম এবং করোনা প্রতিষেধক পাঠিয়ে আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিল।
কূটনৈতিক তাৎপর্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানের প্রভাব কমাতে এবং সাধারণ মানুষের মন জয় করতে ভারতের এই ‘মেডিক্যাল ডিপ্লোমেসি’ বা চিকিৎসা কূটনীতি অত্যন্ত কার্যকরী। পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আফগানিস্তানকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া ভারতের দীর্ঘমেয়াদী রণকৌশলেরই অংশ।