তারকেশ্বর ধামে আধুনিক করিডর! মন্দির চত্বরের ভোলবদলে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন

বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ করিডরের আদলে এবার সেজে উঠছে তারকেশ্বর ধাম। পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও জাগ্রত এই মন্দির চত্বরকে দেশের অন্যতম আধুনিক এবং জমকালো ধর্মীয় করিডর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। আগামী ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তারকেশ্বরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সফরের মধ্যেই মেগা প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অথবা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এই প্রকল্পের রূপরেখা ও প্রস্তুতি নিয়ে হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরির সভাপতিত্বে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে জেলার শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে তারকেশ্বর মন্দিরের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়ন, মন্দির চত্বরের সৌন্দর্য্যায়ন এবং পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য আধুনিক ব্যবস্থার রূপরেখা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।

বিশেষ করে শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম ঘটে তারকেশ্বরে। সেই সময় সরু রাস্তা ও যানজট সাধারণ ভক্তদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে এবার মন্দিরগামী রাস্তাগুলি প্রশস্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রয়োজনে মন্দির চত্বরের আশপাশের জমি অধিগ্রহণ করা হতে পারে। তবে পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পুণ্যার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক পরিকাঠামো গড়ার দিকেই বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ও সেবকরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বহু বছরের আকাঙ্ক্ষিত এই উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু মন্দির চত্বরের ভোলবদলই হবে না, বরং দেশ-বিদেশ থেকে আসা ভক্তদের জন্য এটি একটি স্বর্গীয় অভিজ্ঞতায় পরিণত হবে। ঐতিহাসিক এই মন্দিরের ঐতিহ্য ও মর্যাদা বজায় রেখে আধুনিকীকরণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে মন্দির কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy