তারকেশ্বরের জনসভা থেকে উন্নয়নের ডালি! একুশে জুন যোগ দিবসের মঞ্চে মোদীর বিশেষ বার্তা

আগামী ২০ জুন দু’দিনের গুরুত্বপূর্ণ সফরে রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য-রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর তৎপরতা। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরটি প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক—উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সফরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনে। উল্লেখ্য, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সিদ্ধান্ত বদলে বর্তমান বিজেপি সরকার ২০ জুন তারিখটিকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত এই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণকেই তুলে ধরছে।

বিজেপি সূত্রে খবর, ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মূল অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হবে হুগলির তারকেশ্বরে। তারকেশ্বরকে এই বিশেষ দিনের জন্য বেছে নেওয়ার পেছনে ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে বলে গেরুয়া শিবিরের দাবি। প্রধানমন্ত্রী তারকেশ্বরের এই মেগা জনসভা থেকেই গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর রাজ্যের মানুষকে ধন্যবাদ জানাবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মঞ্চ থেকেই তিনি বাংলার জন্য একগুচ্ছ বড় উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করতে পারেন, যা রাজ্যের আগামী দিনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তারকেশ্বরের কর্মসূচি শেষ করে ওই দিন রাতেই প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় ফিরে আসবেন এবং তাঁর রাত্রিবাসের জন্য লোকভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরের দিন, অর্থাৎ ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। প্রতি বছরই প্রধানমন্ত্রী দেশের কোনো না কোনো প্রান্ত থেকে যোগ দিবসের এই বিশ্বজনীন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন। এবার তাঁর গন্তব্য তিলোত্তমা কলকাতা।

প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে, কলকাতার ঐতিহাসিক নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এই মেগা অনুষ্ঠানটি পালিত হবে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং সকলের সঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নেবেন। তবে যোগ দিবসের এই কর্মসূচিতে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার কথা মাথায় রেখে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব নিরাপত্তার পাশাপাশি স্থান সংকুলানের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। বিকল্প হিসেবে কিছু বড় জায়গার নামও ভাবনায় রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসন ও রাজ্যপাল সবদিক থেকে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। দীর্ঘ সময় পর প্রধানমন্ত্রীর এভাবে একগুচ্ছ কর্মসূচিতে রাজ্যে উপস্থিত হওয়া এবং তারকেশ্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনসভা করাকে ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা। একদিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন, অন্যদিকে যোগ দিবসের মতো বিশ্বজনীন অনুষ্ঠানে মোদীর অংশগ্রহণ—এই দু’দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে ঠিক কী বার্তা দেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy