তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে যে নাটক শুরু হয়েছিল, তা এখন এক চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্সের দিকে এগোচ্ছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা থালাপথি বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজগম’ (TVK) এবার কি সত্যিই ক্ষমতায় বসতে চলেছে? জল্পনা তুঙ্গে কারণ, এতদিন যে ভিসিকে (VCK) বা বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচি বিজয়ের ঘোর বিরোধী হিসেবে পরিচিত ছিল, তাদের একটি পদক্ষেপেই এখন তোলপাড় দাক্ষিণাত্য।
গোপন ডিল না কি মাস্টারস্ট্রোক? সূত্রের খবর, ভিসিকে প্রধান থল থিরুমাবলাভানকে বিজয়ের পাঠানো একটি বিশেষ বার্তাই ঝড়ের গতিতে দাবানল ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পর্দার আড়ালে দুই শিবিরের মধ্যে এক দীর্ঘ আলোচনার ফসল এই ‘বন্ধুত্ব’। শনিবার সকালেই ভিসিকে-র পক্ষ থেকে বিজয়কে সমর্থনের একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ১০৮টি আসন পেয়ে বিজয় একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও ম্যাজিক ফিগার ১১৮ ছুঁতে তাঁর কিছু সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। ভিসিকে-র ২ জন বিধায়ক সেই অভাব পূরণ করতে বড় ভূমিকা নিচ্ছেন।
অঙ্ক মিলছে না রাজভবনে! এদিকে বিজয় গত তিন দিন ধরে লাগাতার রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে দেখা করছেন। আজ দিনটি ‘শুভ’ মনে করে শপথ গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও সংখ্যাতত্ত্বের কড়াকড়ি থেকে সরছেন না রাজ্যপাল। এর মধ্যেই কংগ্রেস, সিপিআই এবং সিপিএম বিজয়ের পাশে দাঁড়ানোয় তামিল রাজনীতিতে ডিএমকে-এআইএডিএমকে-র মতো প্রথাগত দ্রাবিড় শক্তিগুলো এখন অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে।
বিজয় কি মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন? ভিসিকে-র সমর্থন পাওয়ার পর এখন বিজয়ের ঝুলিতে ১১৯ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে শিবির অবশ্য একে ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’ বলে আক্রমণ শানিয়েছে। তবে সব জল্পনা উস্কে দিয়ে বিজয়ের শিবিরের দাবি, খুব শীঘ্রই থালাপথি তামিলনাড়ুর কুর্সিতে বসতে চলেছেন। এখন নজর কেবল রাজভবনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।





