ডেডলাইন ৩১ মার্চ! পড়ুয়াদের পাতে এবার এক ডজন ডিম, শিক্ষা দফতরের কড়া নির্দেশিকায় শোরগোল

রাজ্যের স্কুল পড়ুয়াদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল শিক্ষা দফতর। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে প্রত্যেক পড়ুয়াকে অন্তত এক ডজন বা ১২টি ডিম খাওয়াতে হবে— এমনই এক কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে। আর্থিক বছর শেষ হওয়ার আগেই মিড-ডে মিলের জন্য বরাদ্দ করা অতিরিক্ত পুষ্টির টাকা যাতে সঠিকভাবে খরচ করা হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নবান্নের এই নির্দেশের পর থেকেই রাজ্য জুড়ে স্কুলগুলোতে সাজ সাজ রব পড়ে গিয়েছে।

সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, মিড-ডে মিলে সাধারণ ডাল-ভাতের পাশাপাশি পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত পুষ্টির জন্য ডিমের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। চলতি আর্থিক বছরের (২০২৫-২৬) বরাদ্দ অর্থ খরচ করার সময়সীমা ফুরিয়ে আসছে। তাই শিক্ষা দফতরের নির্দেশ, ৩১ মার্চের মধ্যে স্কুলগুলোকে এমনভাবে মেনু তৈরি করতে হবে যাতে গড়ে প্রতিটি পড়ুয়া ১২টি করে ডিম পায়। এর ফলে সপ্তাহে অন্তত দু’দিন বা তার বেশি দিন পড়ুয়াদের পাতে ডিম দিতে হবে।

ইতিমধ্যেই জেলা শাসক ও স্কুল পরিদর্শকদের (DI) কাছে এই নির্দেশিকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনোভাবেই যেন এই পুষ্টির টাকা পড়ে না থাকে। যদি কোনো স্কুল এই সময়ের মধ্যে ডিম খাওয়ানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বরাদ্দ অর্থ থাকা সত্ত্বেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে পড়ুয়ারা পুষ্টিকর খাবার পায় না। সেই ফাঁক ভরাট করতেই এবার নবান্নের এই তৎপরতা।

তবে এই নির্দেশ ঘিরে শিক্ষা মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষকদের একাংশের দাবি, হাতে সময় খুব কম। এত অল্প সময়ের মধ্যে এত ডিমের জোগান দেওয়া এবং পড়ুয়াদের খাওয়ানো বেশ চ্যালেঞ্জিং। অন্যদিকে, পুষ্টিবিদরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, পরীক্ষার মরশুমে শিশুদের শরীরে প্রোটিনের জোগান বাড়লে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক গঠন মজবুত হবে। এখন দেখার, ৩১ মার্চের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি স্কুল এই ‘ডজন ডিমের’ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারে কি না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy