ডেঙ্গি-আতঙ্কে কাঁপছে কলকাতা! আক্রান্ত হাজার পার, ডেপুটি মেয়রের ওয়ার্ডে শিশু-মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে!

ডেঙ্গির ভরা মরসুমে শহরে ফের তৈরি হলো উদ্বেগ। লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, যা ইতিমধ্যেই হাজার (১০১৭) এর গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। এর মধ্যেই বড়সড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এক মর্মান্তিক ঘটনা—কলকাতার প্রাথমিক স্বাস্থ্যের দেখভালের দায়িত্বে থাকা মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) তথা ডেপুটি মেয়রের ওয়ার্ডেই ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে এক বছর পাঁচের শিশুর প্রাণহানি।

এই ঘটনা নিয়ে শহরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি এই মৃত্যুর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত হইচইয়ের পরেও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) এই মর্মান্তিক মৃত্যু প্রসঙ্গে সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকার দাবি করেছেন।

মেয়রের দাবি, ‘কাগজ পড়ে জানলাম’: ডেপুটি মেয়রের ওয়ার্ডে শিশুর মৃত্যু প্রসঙ্গে মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, “এটা আমি বলতে পারব না, কারণ স্বাস্থ্য দফতর থেকে আমাদের এখনও কিছু জানায়নি। প্রাইভেট নার্সিংহোমে বোধ হয় হয়েছে। আমার কাছে এমন কোনও রিপোর্ট নেই। আপনাদের কাছে ও কাগজ পড়েই জানলাম।”

কলকাতা পুরনিগমের তথ্য বলছে, ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১০১৭, যা গত সপ্তাহে ছিল ৯৩২। এক সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৮৫টি। যদিও মেয়র অতীতের সঙ্গে তুলনা টেনে বলেন, ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল খুবই কম (৭৯১), সেটা ছেড়ে দিলেও ২০২৩ সালে এই সময় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১,৪২১। এ বছর তার মাত্র ১০ শতাংশে রয়েছে।

‘সামাজিক সমস্যা, সকলকে সচেতন হতে হবে’: ডেঙ্গি সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “ভীষণ বৃষ্টি হলে ডেঙ্গি হয় না, কারণ লার্ভা ধুয়ে চলে যায়। যখন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়, তখনই সমস্যা বাড়ে। কার ছাদে টবে, ভাঙা বালতিতে, বা ডাবের খোলায় জল জমে আছে—এইগুলো নিয়ে চিন্তা থাকে। এই সমস্যা শুধু সরকার বা কর্পোরেশনের নয়। এটা একটা সামাজিক সমস্যা।” তিনি নাগরিকদের প্রতি সপ্তাহে একদিন বাড়ি ও ধারপাশ পরিচ্ছন্ন রেখে নজরদারি চালানোর অনুরোধ জানান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy