ডিভোর্স আইনে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার কি সমান নয়? সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন মামলাকারী!

হিন্দু বিবাহ আইনে (Hindu Marriage Act 1955) স্বামী এবং স্ত্রীর অধিকার সমান নয় কেন? এই প্রশ্ন তুলে দায়ের করা এক জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারতীয় সংবিধান যখন মহিলাদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা এবং আইনি কবচের অনুমতি দেয়, তখন সেই সুরক্ষাকে চ্যালেঞ্জ জানানো অত্যন্ত কঠিন। আদালতের এই পর্যবেক্ষণে লিঙ্গসাম্যের আইনি লড়াই এক নতুন মাত্রা পেল।

আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ: এদিন মামলার শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা মামলাকারীর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদালত লক্ষ্য করে যে, আবেদনটি আপাতদৃষ্টিতে জনস্বার্থ মামলা বা ‘পিআইএল’ (PIL) হিসেবে পেশ করা হলেও, এর গভীরে লুকিয়ে আছে ব্যক্তিগত দাম্পত্য বিবাদ। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল— এই মামলাটি কোনো বড় সাংবিধানিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেয়ে বরং মামলাকারীর নিজের দাম্পত্য কলহ বা ক্ষোভ মেটানোর হাতিয়ার হিসেবে বেশি মনে হচ্ছে।

মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট: শুনানির সময় শীর্ষ আদালত মনে করিয়ে দেয় যে, ভারতীয় সংবিধানে নারীদের সামাজিক ও আইনি অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে বিশেষ সংস্থান রয়েছে। হিন্দু বিবাহ আইনের বিভিন্ন ধারায় মহিলাদের যে বাড়তি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, তা সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই পড়ে। তাই বিবাহবিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া বা অন্যান্য ক্ষেত্রে পুরুষের সমান অধিকার নেই— এই যুক্তিতে সেই সুরক্ষা কবচ তুলে নেওয়া যায় না।

দাম্পত্য বিবাদ বনাম আইনি লড়াই: আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালত এই নির্দেশের মাধ্যমে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানোর জন্য আদালতের সময় নষ্ট করা বা জনস্বার্থ মামলার অপব্যবহার যে বরদাস্ত করা হবে না, তা কার্যত পরিষ্কার করে দিল শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া বার্তার পর, বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত আইনের সমতা নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তাতে আপাতত ইতি পড়ল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy