বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA) দাবিতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের লড়াই এবার আদালত চত্বরেও আছড়ে পড়তে চলেছে। আগামী ১৩ই মার্চ রাজ্যজুড়ে যে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে, তাতে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে সামিল হওয়ার ঘোষণা করল কলকাতা হাইকোর্টের সরকারি কর্মচারী পরিষদ। এর ফলে ওই দিন উচ্চ আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কেন এই ধর্মঘট? কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালাচ্ছেন রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে বারেবারে রাজ্য সরকারকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও, জট কাটেনি। উল্টে আদালত অবমাননার মামলা এবং পাল্টা আইনি লড়াইয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই আবহেই ১৩ই মার্চ কর্মবিরতি ও ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের কর্মচারী পরিষদ সাফ জানিয়েছে, তাঁদের দাবি না মানা পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না।
আদালতের কাজকর্মে প্রভাব কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের বিচারব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র। সেখানে যদি সরকারি কর্মচারী পরিষদের সদস্যরা কাজ বন্ধ রাখেন, তবে মামলার নথি আদান-প্রদান থেকে শুরু করে এজলাসের দৈনন্দিন কাজ—সবই থমকে যেতে পারে। যদিও জরুরি পরিষেবা সচল রাখার চেষ্টা করা হবে বলে জানানো হয়েছে, তবুও সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা ওই দিন ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারের পাল্টা পদক্ষেপ কী? নবান্ন সূত্রে খবর, ধর্মঘটের দিন কাজে অনুপস্থিত থাকলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ইতিপূর্বেও ডিএ ধর্মঘটের দিনগুলোতে রাজ্য সরকার ‘ব্রেক ইন সার্ভিস’ বা বেতন কাটার হুঁশিয়ারি দিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছিল। তবে কর্মচারী পরিষদ সেই ভয় উপেক্ষা করেই আন্দোলনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্তে অনড়। তাঁদের দাবি, “পেটের টানে এই লড়াই, কোনো ভয় দেখিয়ে আমাদের দমানো যাবে না।”