রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (DA) মেটানো নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশকে ‘ধাক্কা’ হিসেবে মানতে নারাজ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বরং শীর্ষ আদালতের এই রায় কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে রাজ্যের লড়াইকেই মান্যতা দিয়েছে বলে দাবি জোড়াফুল শিবিরের। ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশের পর তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী দাবি করেছেন, সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের আর্থিক সীমাবদ্ধতা বুঝতে পেরেই এই ভারসাম্যমূলক রায় দিয়েছে।
এদিন তৃণমূল মুখপাত্র বলেন, “সুপ্রিম কোর্টকে ধন্যবাদ যে তারা বুঝতে পেরেছে কেন্দ্র কীভাবে রাজ্যের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে। ১০০ দিনের কাজের পাওনা ৫২ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্র আটকে রেখেছে। সেই টাকা হাতে থাকলে রাজ্য হয়তো ১০০ শতাংশ ডিএ-ই দিয়ে দিত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা অসম্ভব, আর সেই বাস্তবতা বিচার করেই কোর্ট ২৫ শতাংশের কথা বলেছে।” তাঁর মতে, এই রায়ের মাধ্যমে আদালত প্রমাণ করেছে যে রাজ্য সরকার কর্মচারীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া সত্ত্বেও আর্থিক বঞ্চনার শিকার।
অন্যদিকে, ১১০৬ দিন ধরে ধর্মতলায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বইছে খুশির হাওয়া। আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এরিয়ার-সহ ২৫ শতাংশ ডিএ ৩১ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। পুরো বিষয়টির ওপর নজরদারির জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা ১৫ মে-র মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবে। ডিএ মৌলিক অধিকার কি না, তা নিয়ে আদালত এখনই চূড়ান্ত সিলমোহর না দিলেও, বকেয়া পাওনা আদায়ের লড়াইতে কর্মচারীদের এই জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।