পাহাড়ের কোল ঘেঁষে কুউউ ঝিকঝিক শব্দে এগিয়ে চলেছে টয়ট্রেন, আর জানালার বাইরে ঘন কুয়াশা ঘেরা জঙ্গল ও সবুজে মোড়া চা বাগান। দার্জিলিংয়ের চিরচেনা আকর্ষণের বাইরে এবার কার্শিয়াংকে কেন্দ্র করে পর্যটনের এক নয়া দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR) ও কার্শিয়াং বনবিভাগের যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া নতুন দুই পর্যটন সার্কিট উত্তরবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে বড়সড় বদল আনতে চলেছে।
‘বাঘেরা’ ও ‘টি অ্যান্ড টিম্বার’ ট্রেইল: কী আছে এই প্যাকেজে? সম্প্রতি কার্শিয়াং এবং সংলগ্ন অঞ্চলে আয়োজিত তিন দিনের এক ‘ফ্যামিলিয়ারাইজেশন ট্যুর’ বা ‘ফ্যাম ট্যুর’-এর মাধ্যমে এই নতুন পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো— টয়ট্রেন, চা বাগান এবং অরণ্যের স্বাদকে এক সুতোয় গেঁথে পর্যটকদের জন্য এক বিলাসীবহুল অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়া।
বাঘেরা ট্রেইল: ডাউহিল ও সংলগ্ন বনাঞ্চলের অসামান্য প্রাকৃতিক রূপ তুলে ধরাই এই ট্রেইলের বৈশিষ্ট্য। কার্শিয়াং থেকে মহানদী পর্যন্ত টয়ট্রেনের চার্টার্ড কোচে জয়রাইডের সুযোগ পাবেন পর্যটকরা। রাতে থাকার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে চা বাগান ও জঙ্গলের মাঝে অবস্থিত ‘অ্যালোনা স্টে’ বা ‘লা দাস ট্রি টপস’-এর মতো মনোরম রিসর্ট।
টি অ্যান্ড টিম্বার ট্রেইল: সুকনা থেকে হেরিটেজ ‘এভারেস্ট’ ও ডাইনিং কোচে চড়ে রংটং পর্যন্ত যাত্রা। পথে তিনধারিয়া কর্মশালায় ১৪০ বছরের পুরনো রেল ইঞ্জিনিয়ারিং দেখার সুযোগ পাবেন পর্যটকরা।
পাখি দেখা আর চা পাতার গন্ধ এবারের নতুন সার্কিটের অন্যতম আকর্ষণ হলো শিবখোলা। পক্ষীপ্রেমীদের জন্য এই জায়গাটি একটি আদর্শ ‘বার্ডিং হটস্পট’। অন্যদিকে, সিপাহিধুরা চা বাগানে পর্যটকরা শুধু ঘুরতে যাবেন না, সেখানে নিজ হাতে চা পাতা তোলা এবং ফ্যাক্টরিতে চা তৈরির প্রক্রিয়াও দেখার সুযোগ পাবেন। নেপালি লোকনৃত্যের আতিথেয়তায় পাহাড়ের মাটির স্বাদ পাবেন পর্যটকরা।
টয়ট্রেনের ভোল বদল নিয়ে মেগা বৈঠক শুধু নতুন রুটই নয়, পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী রেল পরিষেবা বা ‘মাউন্টেন রেলওয়ে’-কে কীভাবে আরও আধুনিক ও লাভজনক করা যায়, তা নিয়ে দার্জিলিংয়ের মেফেয়ার হোটেলে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নীলগিরি, কালকা-শিমলা এবং মাথেরান রেলের শীর্ষ আধিকারিকরা এই বৈঠকে অংশ নেন। হেরিটেজ বজায় রেখে পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পর্যটনে ‘গেম-চেঞ্জার’ অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজম (ACT)-এর আহ্বায়ক রাজ বসু জানিয়েছেন, দার্জিলিং ও কার্শিয়াংকে টেকসই পর্যটনের একটি হিমালয় মডেল হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য। পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, টয়ট্রেনের চার্টার্ড সার্ভিস এবং ইকো-ট্যুরিজমের এই যুগলবন্দি উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায় ‘গেম-চেঞ্জার’ হতে চলেছে।





