রেললাইনের ঝকঝক শব্দের মাঝে হঠাৎই এক যাত্রীর আর্তচিৎকারে স্তম্ভিত হয়ে গেল গোটা ট্রেন। চলন্ত ট্রেনের শৌচাগারের ভেতরে পাওয়া গেল এক সদ্যোজাত শিশুকন্যাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটি কমোডের ভেতরে পড়ে ছিল। এই মর্মান্তিক এবং শিউরে ওঠা ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বিকেলে ডাউন হাওড়া-পুরী এক্সপ্রেসে। এক যাত্রীর তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে ওই নিষ্পাপ প্রাণটিকে।
ঠিক কী ঘটেছিল? ট্রেনটি তখন ওড়িশা সীমান্ত পেরিয়ে খড়্গপুরের দিকে আসছিল। এক যাত্রী সাধারণ বগির শৌচাগারে যেতেই দেখেন মেঝেতে রক্ত পড়ে রয়েছে এবং কমোডের ভেতর থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে। কাছে গিয়ে দেখেন একটি নবজাতক শিশু সেখানে পড়ে ছটফট করছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ট্রেনের চেন টেনে ট্রেন থামান এবং অন্যান্য যাত্রীদের খবর দেন।
উদ্ধার ও বর্তমান অবস্থা: রেল পুলিশের (GRP) সহায়তায় শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির বয়স মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তার শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন থাকলেও বর্তমানে সে স্থিতিশীল। রেলওয়ের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে।
মা কোথায়? রহস্য দানা বাঁধছে: সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, শিশুটির মা কোথায়? প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ট্রেনটি যখন আগের স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল, তখন এক মহিলাকে ওই শৌচাগারের আশেপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল। পুলিশের অনুমান, লোকলজ্জার ভয়ে বা অন্য কোনো কারণে ওই মহিলা চলন্ত ট্রেনেই সন্তানের জন্ম দিয়ে তাকে সেখানে ফেলে রেখে কোনো এক স্টেশনে নেমে গিয়েছেন। রেল পুলিশ ইতিমধ্যেই ট্রেনের সিসিটিভি ফুটেজ এবং যাত্রীদের তালিকা খতিয়ে দেখে অভিযুক্তার সন্ধান চালাচ্ছে। এই অমানবিক ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।