হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই নিজের আগ্রাসী মেজাজে ধরা দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তাঁর নিশানায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক হুঁশিয়ারি ঘিরে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠছে—তবে কি দোরগোড়ায় আরও একটি মহাযুদ্ধ?
কী কারণে এই চরম উত্তেজনা? বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-তৃতীয়াংশ পরিবাহিত হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ইরান বারবার এই জলপথ বন্ধ করার হুমকি দিয়ে আসলেও, এবার ট্রাম্প প্রশাসন পাল্টা রণকৌশল সাজাচ্ছে। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকার স্বার্থে বা বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত হানে এমন কোনো পদক্ষেপ কেউ নিলে তিনি ‘চরম ব্যবস্থা’ নিতে দ্বিধা করবেন না।
ট্রাম্পের কড়া বার্তা: ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীতে চলাচলে বাধা দিলে বা কোনো জাহাজ আটক করার চেষ্টা করলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে তা ‘উড়িয়ে দেওয়া’ হবে। কূটনৈতিক ভাষায় একে ‘প্রি-emptive স্ট্রাইক’ বা আগাম হামলার হুঁশিয়ারি হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন এই জলপথ এত গুরুত্বপূর্ণ?
জ্বালানি নিরাপত্তা: ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথটি বন্ধ হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ থমকে যাবে।
অর্থনৈতিক ধস: এর ফলে ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলোতে তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা ডেকে আনবে।
সামরিক আধিপত্য: এই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়ে ইরানকে চাপে রাখাই ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য।
মহাযুদ্ধের মেঘ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘আটকালেই উড়িয়ে দেব’ নীতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের পথ প্রশস্ত করছে। যদি আমেরিকা সত্যিই হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে রাশিয়া ও চিনের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
বিশ্বের নজর এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ট্রাম্পের এই ‘মাস্টারপ্ল্যান’ শান্তি ফেরাবে নাকি ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে বিশ্বকে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।





