ট্রাম্পের মাস্টারস্ট্রোক! নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে বাংলাদেশের জন্য বড় উপহার আমেরিকার

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে ঢাকার জন্য বড়সড় সুখবর নিয়ে এল ওয়াশিংটন। সোমবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে একটি যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তি, যার ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কের হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এটি বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যের জন্য এক বিরাট জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুল্ক ছাড় ও বস্ত্রশিল্পের শর্ত: বাংলাদেশের রফতানির প্রাণভোমরা হলো তৈরি পোশাক শিল্প। নতুন চুক্তিতে নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাকপণ্যকে সম্পূর্ণ ‘শুল্কমুক্ত’ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এই সুবিধার পেছনে রয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট শর্ত। প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, শুধুমাত্র সেইসব পোশাকই শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, যেগুলোতে আমেরিকায় উৎপাদিত তুলা (Cotton) এবং মানবসৃষ্ট তন্তু (Man-made fiber) ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিশেষ সুবিধাটি আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে কাঁচামাল রফতানির পরিমাণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে।

আমেরিকার জন্য বাংলাদেশের বাজার উন্মুক্ত: শুধুমাত্র একপক্ষীয় সুবিধা নয়, এই চুক্তির অধীনে বাংলাদেশকেও বেশ কিছু ছাড় দিতে হচ্ছে। এখন থেকে মার্কিন কৃষি ও শিল্পপণ্য—যেমন রাসায়নিক, চিকিৎসা সরঞ্জাম, গাড়ির পার্টস এবং জ্বালানি আমদানিতে অগ্রাধিকার দেবে বাংলাদেশ। এছাড়া আমেরিকার মান অনুযায়ী অনুমোদিত যানবাহন এবং মার্কিন ওষুধ আমদানির ক্ষেত্রে আগে যে বিধিনিষেধ ছিল, তা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ঢাকা। পরিবেশ রক্ষা এবং মেধাস্বত্ব (IPR) সুরক্ষার বিষয়েও উভয় দেশ একমত হয়েছে।

ভবিষ্যতের বড় বিনিয়োগ: এই চুক্তি কেবল শুল্ক কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন জ্বালানি আমদানি এবং ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য কেনার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের। এমনকি উড়োজাহাজ ক্রয়ের মতো বড় বাণিজ্যিক চুক্তিও পাইপলাইনে রয়েছে। ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলনের পর ধাক্কা খাওয়া বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে এই চুক্তি পুনরায় বিশ্ববাজারে শক্তিশালী অবস্থানে ফিরিয়ে আনবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy