মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার শুরু হয়েছে এক ভয়ঙ্কর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জি-৭ (G7) নেতাদের কাছে দাবি করেছেন যে, ইরান ‘আত্মসমর্পণের মুখে’। অন্যদিকে, কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ থাকা ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই (Mojtaba Khamenei) সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। যদিও তাঁর শরীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ধোঁয়াশা কাটেনি, তবে তাঁর দফতর থেকে জারি করা এক বার্তায় পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—ইরান শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়বে।
ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি: সম্প্রতি জি-৭ দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন যে, মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি এবং নেতৃত্ব কার্যত ধুলোয় মিশে গিয়েছে। ট্রাম্পের কথায়, “ইরান এখন পরাজয় স্বীকার করার ঠিক আগের মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের হাতে না আছে বায়ুসেনা, না আছে নৌসেনা।” এমনকি মোজতবাকে ‘লাইটওয়েট’ বা নগণ্য নেতা বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। মার্কিন গোয়েন্দাদের একটি অংশের দাবি ছিল, বিমান হানায় গুরুতর জখম হয়ে মোজতবার একটি পা বাদ গিয়েছে এবং তিনি কোমায় রয়েছেন।
মোজতবার পালটা জবাব: ট্রাম্পের এই বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মোজতবা খামেনেইর প্রথম প্রকাশ্য বিবৃতি সামনে আসে। যদিও তিনি নিজে ক্যামেরার সামনে আসেননি, তবে তাঁর বার্তায় বলা হয়েছে— “প্রতিশোধই এখন আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।” তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী কোনোভাবেই খোলা হবে না এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো হবে ইরানের পরবর্তী লক্ষ্য। মোজতবার এই বার্তার পর জল্পনা শুরু হয়েছে যে, তিনি হয়তো সত্যিই বেঁচে আছেন, কিন্তু জনসমক্ষে আসার মতো শারীরিক অবস্থায় নেই।
রণক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ: মোজতবার এই ‘রণহুঙ্কার’ প্রমাণ দিচ্ছে যে, ইরানের ক্ষমতা এখন কট্টরপন্থীদের হাতে। তাঁর বার্তায় রাশিয়ার সাহায্য এবং ইজরায়েলের ওপর ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ (True Promise 4) অভিযানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একদিকে আমেরিকা যখন জয় দেখছে, ইরান তখন পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন দেখার, এই যুদ্ধের জল আর কতদূর গড়ায় এবং মোজতবা খামেনেইর শারীরিক অবস্থার আসল সত্যিটা ঠিক কী।