ট্রাম্পের ‘ট্যারিফ’ রাজে ইতি! ১৩০ বিলিয়ন ডলার ফেরতের নির্দেশ মার্কিন আদালতের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ‘আমদানি শুল্ক’ বা ট্যারিফ এবার বুমেরাং হয়ে তাঁর দিকেই ফিরে এল। গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতিকে ‘বেআইনি’ ঘোষণা করার পর, বুধবার নিউইয়র্কের ‘ইউএস কোর্ট অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’-এর বিচারপতি রিচার্ড ইটন এক চূড়ান্ত নির্দেশ জারি করেছেন। এই নির্দেশ অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন গত এক বছরে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর যে কর চাপিয়েছিল, তা এখন ব্যবসায়ীদের ফেরত দিতে হবে।

১৩৪ বিলিয়ন ডলারের বোঝা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের এই ‘ইমার্জেন্সি’ শুল্ক নীতির মাধ্যমে মার্কিন সরকার প্রায় ১৩৪ বিলিয়ন (১৩ হাজার ৪০০ কোটি) ডলার সংগ্রহ করেছিল। পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের মতে, সুদের হার ধরলে এই পরিমাণ ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। বিচারপতি ইটন স্পষ্ট জানিয়েছেন, যারা এই শুল্ক প্রদান করেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই এই রিফান্ড বা অর্থ ফেরতের অধিকারী।

কেন এই নির্দেশ? ট্রাম্প ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (IEEPA) ব্যবহার করে কানাডা, মেক্সিকো এবং চিনের মতো দেশগুলোর ওপর ব্যাপক হারে শুল্ক চাপিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, এই আইন ব্যবহার করে কোনো প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে শুল্ক চাপাতে পারেন না, কারণ কর নির্ধারণের ক্ষমতা কেবল সংসদের (Congress)। আদালতের এই রায়ের পর ৩০০,০০০-এরও বেশি আমদানিকারক সংস্থা এখন তাদের টাকা ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া বিচারপতির এই নির্দেশে হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্প প্রশাসন চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। মার্কিন শুল্ক বিভাগ (CBP) জানিয়েছে, কোটি কোটি শিপমেন্টের হিসেব কষে টাকা ফেরত দেওয়া এক বিশাল প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। তবে আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সরকার কীভাবে টাকা ফেরত দেবে সেটা তাদের ব্যাপার, কিন্তু ব্যবসায়ীদের প্রাপ্য থেকে তাঁদের বঞ্চিত করা যাবে না। ট্রাম্প এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করলেও, আদালতের কড়া অবস্থান এই বাণিজ্য যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy