বাংলাদেশ ও আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কের সমীকরণে বড়সড় বদল ঘটাল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যকে আরও চাঙ্গা করতে এবং পারস্পরিক শুল্ক কমাতে দুই দেশের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কের হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নিয়ে আসা হয়েছে।
সম্প্রতি একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে এই বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বসিরউদ্দিন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। আমেরিকার পক্ষে স্বাক্ষর করেন তাদের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার। উল্লেখ্য, গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করেছিল, যেখানে প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হলেও, এই নয়া চুক্তির মাধ্যমে তা আরও এক ধাপ কমল।
টেক্সটাইল শিল্পে বড় চমক: বাংলাদেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে পোশাক ও টেক্সটাইল ক্ষেত্র থেকে। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ অরাজকতার কারণে এই শিল্প বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়েছিল। তবে নতুন এই চুক্তিতে বিশেষ কিছু ধরনের টেক্সটাইল এবং পোশাকের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ‘শূন্য’ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান জানান, এই প্রত্যাশিত শুল্ক ছাড় বাংলাদেশের ঝিমিয়ে পড়া পোশাক শিল্পকে পুনরায় বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থানে নিয়ে আসবে।
হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন সহজ করতে বদ্ধপরিকর। এর ফলে আগামী দিনে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহ দুই-ই বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।