দেশের প্রথম সারির আইটি সংস্থা টিসিএস (TCS)-এর নাসিক শাখায় ঘটে যাওয়া যৌন হেনস্থা, ব্ল্যাকমেল এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ মামলার তদন্তে বড়সড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ। শুক্রবার এই ঘটনার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) সেশন কোর্টে প্রায় ১৫০০ পাতার প্রথম চার্জশিট জমা দিয়েছে। এই চার্জশিটে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রমাণ থেকে শুরু করে অকাট্য তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে।
নাসিকের দেওলালি ক্যাম্প থানায় দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে এই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৯টি এফআইআর রুজু হয়েছে এবং আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার চার মূল অভিযুক্ত—দানিশ এজাজ শেখ, তৌসিফ বিলাল আত্তার, নিদা এজাজ খান এবং মতিন মজিদ প্যাটেলের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়েছে। এর মধ্যে মতিন মজিদ প্যাটেল এআইএমআইএম (AIMIM)-এর এক কর্পোরেটর। অভিযোগ, মূল অভিযুক্ত নিদা খানকে গা ঢাকা দিতে সাহায্য করেছিলেন তিনি।
কী কী ধারায় মামলা?
পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং এসসি/এসটি আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (৬১/২), ধর্ষণ (৬৪), যৌন হেনস্থা (৬৮), প্রতারণা (৬৯ ও ৩১৮/৪), যৌন নিগ্রহ (৭৫) এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার (২৯৯) মতো গুরুতর ধারা। এছাড়া অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে ২৪৯ ধারা যোগ করা হয়েছে।
ডিজিটাল প্রমাণই হাতিয়ার:
তদন্তকারীদের দাবি, চার্জশিটের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে নির্যাতিতা এবং অভিযুক্তদের মধ্যে হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, অশ্লীল মেসেজ এবং ইমেলের আদানপ্রদান। এই সমস্ত ডিজিটাল নথি ও ফরেনসিক প্রমাণ থেকে স্পষ্ট, কীভাবে ওই মহিলা কর্মীদের ওপর দিনের পর দিন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং নির্দিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও টিসিএস-এর ভূমিকা:
টিসিএস-এর নাসিক অফিসের আটজন সাহসী মহিলা কর্মী কর্মক্ষেত্রের এই অন্ধকার দিকটি সামনে আনেন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন দ্রুত নড়েচড়ে বসে। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। টিসিএস কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে হেনস্থা ও ধর্মীয় চাপের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ রয়েছে। অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর অভিযুক্তদের তৎক্ষণাৎ চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই প্রথম চার্জশিট পেশের পর আদালতের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় এখন গোটা দেশ। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি মামলাগুলিরও দ্রুত চার্জশিট তৈরির কাজ চলছে যাতে অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।





