মহারাষ্ট্রের নাসিকে আইটি জায়ান্ট টিসিএস (TCS) দপ্তরে যৌন শোষণ এবং ধর্মান্তর চক্র চালানোর অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছিল বেশ কিছুদিন আগেই। সেই ঘটনার মূল অভিযুক্ত, টিসিএস-এর সাসপেন্ড হওয়া কর্মী নিদা খানকে অবশেষে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগর থেকে তাকে পাকড়াও করা হয়েছে। গত ৪০ দিন ধরে পুলিশকে ধোঁকা দিয়ে পলাতক ছিল এই অভিযুক্ত।
যৌথ অভিযানে সাফল্য:
নাসিক এসআইটি (SIT), ছত্রপতি সম্ভাজীনগর ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং পুলিশ কমিশনারের একটি বিশেষ দল যৌথভাবে এই অভিযান চালায়। জানা গিয়েছে, গত চার দিন ধরে নিদা খান নারেগাঁও-এর কাইজার কলোনির একটি ফ্ল্যাটে নিজের বাবা-মা, ভাই ও মাসির সঙ্গে লুকিয়ে ছিল। পুলিশ গত দু’দিন ধরে ওই ফ্ল্যাটটির ওপর কড়া নজরদারি চালিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরেই অভিযান চালায় এবং নিদাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। এরপর তাকে জেএমএফসি (JMFC) বিচারকের বাসভবনে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ড নেওয়া হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাসিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কী এই নাসিক টিসিএস কাণ্ড?
অভিযুক্ত নিদা খান টিসিএস-এর নাসিক ইউনিটে কর্মরত ছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে কর্মক্ষেত্রে মহিলা সহকর্মীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত এবং তাঁদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য প্রচণ্ড চাপ দিত। এই একই মামলায় এর আগে আরও ছয়জন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিদা খানের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর-এ (FIR) যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা শিউরে ওঠার মতো। অভিযোগ, সে মহিলা সহকর্মীদের নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতি-নীতি মেনে চলতে বাধ্য করত। পোশাক থেকে শুরু করে খাদ্যাভ্যাস—সবকিছুর ওপর নজরদারি চালাত নিদা।
ভয়াবহ অভিযোগ ও ‘হানিয়া’ যোগ:
বিশেষ সরকারি আইনজীবী অজয় মিসর আদালতে জানিয়েছেন, নিদা এক অভিযোগকারী মহিলাকে বোরখা ও হিজাব উপহার দিয়েছিল এবং জোর করে নামাজ পড়ানো শিখিয়েছিল। এমনকি ওই মহিলার মোবাইলে ইসলামিক শিক্ষার বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনও ইনস্টল করিয়ে দিয়েছিল সে। সবথেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ভুক্তভোগী মহিলার নাম বদলে ‘হানিয়া’ রাখার পরিকল্পনা ছিল নিদার এবং তাকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়া পাঠানোর ছক কষা হয়েছিল।
তদন্তে নয়া মোড়:
তদন্তকারীদের ধারণা, নিদা খানের এই কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে মালেগাঁও এবং মালয়েশিয়ার কোনও বড় ধর্মান্তর নেটওয়ার্ক কাজ করছে। নিদার ব্যক্তিগত ডায়েরি এবং মোবাইল ফোন থেকে এই চক্রের আর্থিক উৎস বা ‘আউটসাইড ফান্ডিং’-এর হদিশ পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নিদাকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করলে এই আন্তর্জাতিক যোগসূত্র এবং আইটি সেক্টরে লুকিয়ে থাকা আরও রাঘববোয়ালদের নাম সামনে আসতে পারে বলে অনুমান পুলিশের।





