অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এক অভাগী মা ও তাঁর তরুণী মেয়ের ওপর বাড়িওয়ালার নির্মম ও পৈশাচিক অত্যাচারের এক হাড়হিম করা ঘটনা সামনে এল। মাসের শেষে স্রেফ সামান্য কয়েকটা টাকার জন্য বাড়ি ভাড়া বাকি পড়ায়, মানবিকতার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে ওই মা ও মেয়ের ওপর নারকীয় নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠল খোদ গৃহকর্তার বিরুদ্ধে। আধুনিক সমাজের বুকে দাঁড়িয়ে এক মহিলার অসহায়তার সুযোগ নিয়ে এই ধরণের বর্বরচিত আচরণ উস্কে দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা ওই পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই অভিযুক্ত বাড়িওয়ালার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সাম্প্রতিক সময়ে চরম আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল পরিবারটি। এর জেরে চলতি মাসের বাড়ি ভাড়া দিতে কিছুটা দেরি হয় তাঁদের। মা ও মেয়ে দুজনেই বাড়িওয়ালার কাছে হাতজোড় করে কয়েকটা দিনের সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, টাকার অহংকারে অন্ধ বাড়িওয়ালা সেই অনুরোধে কান দেওয়া তো দূরস্ত, উল্টে তাঁদের ওপর চড়াও হয়।
নির্যাতিতা মায়ের অভিযোগ, প্রথমে তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এরপরই ক্ষান্ত না হয়ে রাতের অন্ধকারে জোরপূর্বক তাঁদের ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে দেওয়া হয় এবং সমস্ত জিনিসপত্র রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলা হয়। বাধা দিতে গেলে ওই মা ও তাঁর মেয়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা মা-মেয়ের কান্না এবং আর্তনাদেও মন গলানি পাষাণ বাড়িওয়ালার।
ঘটনার পর প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় কোনোক্রমে স্থানীয় থানার দ্বারস্থ হন নির্যাতিতারা। বাড়িওয়ালার এই পৈশাচিক রূপ দেখে স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ গোটা এলাকার মানুষ। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই পুলিশ লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তদন্তে নেমেছে। অভিযুক্ত বাড়িওয়ালাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শিক্ষা এবং সংস্কৃতির এই চত্বরে এক অসহায় মা ও মেয়ের ওপর এমন অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, সমাজের একাংশের মানসিকতা আজ কতটা নীচে নেমে গেছে।





