বলিউডে মুক্তির আগে ফিল্মের জন্য টাকা দিয়ে প্রচার বা ‘পেইড হাইপ’ (Paid Hype) তৈরির প্রবণতা এখন এক গুরুতর সমস্যা। সম্প্রতি এই উদ্বেগজনক ধারা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম (Yami Gautam)। তিনি এই প্রথাকে ‘প্লেগ’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছেন যে, এটি পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ইয়ামি প্রযোজক, পরিচালক এবং অভিনেতাদের এই প্রবণতা বন্ধ করার এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের আসল আনন্দকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর এই দাবিতে সমর্থন জানিয়েছেন সুপারস্টার হৃতিক রোশন (Hrithik Roshan)। তিনি সিনেমার উন্নতির জন্য সৎ মতামত এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়েছেন।
💸 ইয়ামি গৌতমের উদ্বেগ: ‘বিপণনের নামে জবরদস্তি’
ইয়ামি গৌতম তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় বলিউডের এই সমস্যাজনক প্রবণতা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন,
“ফিল্মের বিপণনের আড়ালে টাকা দিয়ে তথাকথিত ‘হাইপ’ তৈরি করা হচ্ছে। নয়তো ‘তারা’ ক্রমাগত নেতিবাচক জিনিস লিখতে থাকবে, যতক্ষণ না আপনি ‘তাদের’ টাকা দেবেন। এটি জবরদস্তি (Extortion) ছাড়া আর কিছুই নয়।”
তিনি এই ‘পেইড হাইপ’ এবং নেতিবাচক সমালোচনাকে একটি ‘প্লেগ’ বলে অভিহিত করেছেন, যা ভারতীয় সিনেমার ভবিষ্যতকে ধ্বংস করছে। ইয়ামি জোর দিয়ে বলেন, এই “দানবীয় প্রবণতা” যদি নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তবে এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
🤝 শিল্পের ঐক্যের ডাক: দক্ষিণে কেন এমন হয় না?
ইয়ামি গৌতম উল্লেখ করেন যে, দক্ষিণ ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের শক্তিশালী ঐক্যের কারণে এই ক্ষতিকারক প্রবণতা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলিউড ইন্ডাস্ট্রির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন,
“আমি আমাদের সম্মানিত প্রযোজক, পরিচালক ও অভিনেতাদের অনুরোধ করছি, এই পর্যায়েই এই উইপোকা-সদৃশ সংস্কৃতিকে দমন করতে একত্রিত হন এবং একে নিরুৎসাহিত করুন।”
তিনি একজন পরিশ্রমী চলচ্চিত্র নির্মাতার স্ত্রী হিসেবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে কথা বলেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে ভারতীয় সিনেমা যেন ভুয়ো প্রচারের প্রভাব ছাড়াই তার পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছতে পারে। ইয়ামি যোগ করেন, “আসুন, আমরা চলচ্চিত্র নির্মাণের আনন্দকে নষ্ট না করি। দর্শককে সিদ্ধান্ত নিতে দিন তারা কী অনুভব করেন। আমাদের শিল্পের পরিবেশ রক্ষা করা দরকার।”
⭐ হৃতিক রোশনের সমর্থন: স্বাধীনতার গুরুত্ব
হৃতিক রোশন ইয়ামি গৌতমের মতকে সমর্থন করেছেন এবং সৎ সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “যে অমূল্য জিনিসটি হারিয়ে যায় এবং যা তাদের (সাংবাদিক) এবং আমাদের সবাইকে দরিদ্র করে তোলে, তা হলো সাংবাদিকের আসল কণ্ঠস্বর, তাদের সুযোগ যে তারা একটি সিনেমার পেছনের সমস্ত সৃজনশীল শক্তিকে জানাতে পারে যে তারা কী অনুভব করেছে, কী ভেবেছে, কী প্রশংসা করেছে এবং কী সমালোচনা করেছে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে সত্য মতামত এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা সিনেমাকে বিকশিত হতে সাহায্য করে। হৃতিক আরও যোগ করেন, “মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া, আমাদের বিকশিত হতে সাহায্য করার মতো সত্য ছাড়া, তারা বা আমরা কেউই কাজের সন্তুষ্টি আশা করতে পারি না।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইয়ামি গৌতমের অভিনীত কোর্টরুম ড্রামা ‘হক’ দারুণ সাড়া পেয়েছে। অন্যদিকে, হৃতিকের সর্বশেষ ছবি ‘ওয়ার ২’ মুক্তি পেলেও ব্যবসায়িক বা সমালোচনামূলকভাবে সফল হতে পারেনি। দুই তারকার এই অভিন্ন উদ্বেগ ভারতীয় সিনেমার ভবিষ্যতের জন্য সততা এবং শৈল্পিক অখণ্ডতা বজায় রাখার দৃঢ় ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে।