টাকা জমানোর নেশা নয়, কৌশল শিখুন! কম বয়সে অবসরের স্বপ্ন পূরণ করবে এই ম্যাজিক ফর্মুলা

বর্তমান যুগে ‘আর্থিক স্বাধীনতা’ বা ফিন্যান্সিয়াল ফ্রিডম শব্দটি কেবল একটি স্বপ্ন নয়, বরং এটি সঠিক পরিকল্পনার নাম। উপার্জনের চেয়েও জরুরি হলো উপার্জিত অর্থ ধরে রাখা এবং তাকে সঠিক পথে চালিত করে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা। আপনি কি চান আপনার টাকা আপনার জন্য কাজ করুক? তবে সম্পদ তৈরির এই ১০টি মৌলিক নিয়ম আজই আপনার অভ্যাসে পরিণত করুন।

১. ৫০/৩০/২০ বাজেট কাঠামো: বেতনের পুরো টাকা খরচ করার আগে তাকে তিনটি ভাগে ভাগ করুন। ৫০% রাখুন ঘরভাড়া বা মুদির মতো জরুরি প্রয়োজনে, ৩০% নিজের শখের জন্য এবং অবশ্যই ২০% ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় বা বিনিয়োগে সরিয়ে রাখুন।

২. নিজেকে প্রথমে অর্থ প্রদান: মাসিক বিল মেটানোর আগে নিজের ভবিষ্যৎ সত্তাকে বিল দিন। অর্থাৎ, বেতন পাওয়ার সাথে সাথেই ২০% টাকা সরাসরি ব্রোকারেজ বা সেভিংস অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিন। মনে রাখবেন, যা বেঁচে যাবে তা সঞ্চয় নয়, বরং সঞ্চয় করার পর যা থাকবে তা-ই খরচ করা উচিত।

৩. লাইফস্টাইল ইনফ্লেশন নিয়ন্ত্রণ: বেতন বাড়লেই দামী গাড়ি বা নতুন ফোন কেনা বন্ধ করুন। আয় বাড়লে খরচ না বাড়িয়ে সেই বাড়তি অংশ বিনিয়োগ করুন। বর্তমান জীবনযাত্রার মান অন্তত দু’বছর বজায় রাখলে আপনার নিট সম্পদ দ্রুত বাড়বে।

৪. ৭২-এর ম্যাজিক নিয়ম: আপনার টাকা কত দ্রুত দ্বিগুণ হবে তা জানার সহজ উপায় এটি। আপনার বার্ষিক রিটার্ন দিয়ে ৭২-কে ভাগ করুন। যদি ৮% রিটার্ন পান, তবে ৯ বছরেই আপনার বিনিয়োগ করা টাকা দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

৫. ঋণের ফাঁদ থেকে মুক্তি: ক্রেডিট কার্ড বা উচ্চ সুদের (৭% এর বেশি) ঋণ থাকলে বিনিয়োগের আগেই তা মেটান। ‘ডেট অ্যাভাল্যাঞ্চ’ পদ্ধতি ব্যবহার করে আগে বড় সুদের ঋণ পরিশোধ করে আর্থিক ক্ষতি বন্ধ করুন।

৬. ৪% উত্তোলনের নিয়ম: অবসরের পর সারা জীবন চলার জন্য আপনার বার্ষিক খরচের প্রায় ২৫ গুণ টাকা সঞ্চয় রাখা জরুরি। যদি বছরে মোট পোর্টফোলিওর ৪% উত্তোলন করেন, তবে মুদ্রাস্ফীতির মধ্যেও আপনার অর্থ অন্তত ৩০ বছর আপনাকে নিরাপত্তা দেবে।

৭. ইমার্জেন্সি ফান্ড ও সুরক্ষা: অন্তত ৩-৬ মাসের খরচ হাত মজুত রাখুন। এতে শেয়ার বাজারের পতন বা আকস্মিক প্রয়োজনে আপনাকে লোকসানে সম্পত্তি বিক্রি করতে হবে না।

৮. বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগ: সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখবেন না। ইক্যুইটি, স্থাবর সম্পত্তি (Real Estate) এবং বন্ডে টাকা ভাগ করে রাখুন যাতে বাজারের উত্থান-পতনের ঝুঁকি সামলানো যায়।

৯. ২৪-ঘণ্টার বিরতি নীতি: ১০ হাজার টাকার ওপর যেকোনো কেনাকাটার আগে অন্তত ২৪ ঘণ্টা সময় নিন। প্রায়ই দেখা যায়, ডোপামিনের রেশ কেটে গেলে সেই অপ্রয়োজনীয় জিনিসের প্রতি আকর্ষণ আর থাকে না।

১০. প্রধান তিন বিষয়ে মনোযোগ: আবাসন, পরিবহন এবং খাবার—এই তিনটি ক্ষেত্রে খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে আর্থিক স্বাধীনতার পথ অনেক সহজ হয়ে যায়। ডেলিভারি অ্যাপে আসক্তি কমিয়ে বা সাশ্রয়ী বাসস্থান বেছে নিয়ে আপনি বড় অংকের সঞ্চয় করতে পারেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy