মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইজরায়েল-মার্কিন সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের রান্নার গ্যাসের বাজারে। কাতারের ‘রাস লাফান’ এলএনজি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এবং হরমুজ প্রণালীতে পরিবহণ ব্যবস্থা কার্যত অবরুদ্ধ হওয়ায় ভারতে এলপিজি সরবরাহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর ফলে দেশের একাধিক অঞ্চলে সিলিন্ডারের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
কালোবাজারে ৫০০০ টাকা দাম!
সাধারণত গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯০০ টাকার আশেপাশে থাকলেও, সরবরাহের এই সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র কালোবাজারে সিলিন্ডার বিক্রি করছে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত দামে। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি একই রকম ভয়াবহ। রেস্তোরাঁ এবং ছোটখাটো খাবারের দোকানগুলি সিলিন্ডার না পেয়ে ব্যবসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।
কেন এই সংকট?
বিশ্ববাজারে দামের বিস্ফোরণ: কাতারের স্থাপনায় হামলার পর এশীয় স্পট এলএনজি-র দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট ১০.৫ ডলার থেকে বেড়ে ২৫ ডলারে পৌঁছেছে।
আমদানিতে বাধা: ভারতের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ৫৫-৬৫ শতাংশ হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে। এই পথ অবরুদ্ধ হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
চাহিদা বৃদ্ধি: রান্নার কাজে এলপিজি-র ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় মজুত ও বণ্টনে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সংকট সাময়িক এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে বর্ধিত আমদানির চেষ্টা চলছে। তবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা চলতে থাকলে আগামী সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।